ব্যাখ্যায় বলেন: “স্বামী-স্ত্রীর জন্য আলাদা বিছানা রাখাতে কোনো দোষ নেই; কারণ অসুস্থতা বা অন্য প্রয়োজনে এর দরকার হতে পারে। তবে স্বামী-স্ত্রীর একই বিছানায় শোয়া উত্তম, যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নাহ ছিল।”
ভারতের বিখ্যাত আলেম মুহাম্মদ সিদ্দিক হাসান খাঁ তাঁর ‘আদ-দ্বীনুল খালিস’ গ্রন্থে লিখেছেন: “এই হাদীসের উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র জমা করা থেকে বিরত থাকা। তিনটি বিছানার অতিরিক্ত রাখা শয়তানের প্ররোচনা মাত্র, কারণ তা অহংকার ও লোকদেখানোর মনোভাব তৈরি করে। আজকের যুগে মানুষ পোশাক ও আসবাবপত্রের বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে হাজার হাজার টাকা অপচয় করছে, অথচ অসংখ্য গরিব মানুষ তাঁদের লজ্জাস্থান ঢাকার মতো কাপড়টুকুও পাচ্ছে না।”
আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালীন জীবন
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে আবু বকর (রা.)-ও সেই সাধারণ জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখেন। ইবনে সাদ (রহ.) বর্ণনা করেন, আবু বকর (রা.) যখন খলিফা মনোনীত হলেন, পরদিন সকালেই তিনি কিছু কাপড় হাতে নিয়ে বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। উমর (রা.) বললেন: “কোথায় যাচ্ছেন?” তিনি বললেন: “বাজারে।” উমর (রা.) বললেন: “এখন তো আপনি মুসলিমদের খলিফা, বাজারে গিয়ে কী করবেন?” আবু বকর (রা.) বললেন: “তবে আমার পরিবার খাবে কী?” উমর (রা.) বললেন: “চলুন, আবু উবাইদাহ আপনার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করে দেবেন।” আবু উবাইদাহ (রা.) বললেন: “আমি আপনার জন্য একজন সাধারণ মুহাজিরের সমপরিমাণ খাবার এবং শীত ও গ্রীষ্মের পোশাকের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি; পুরোনো হয়ে গেলে ফেরত দিয়ে নতুনটি নেবেন।” তাঁরা তাঁর জন্য প্রতিদিন অর্ধেক ছাগলের মাংস এবং সাধারণ পোশাকের ব্যবস্থা করলেন।
ইমাম তাবারানী (রহ.) হাসান ইবনে আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আবু বকর (রা.) যখন মৃত্যুশয্যায়, তখন তিনি আয়েশা (রা.)-কে বললেন: “হে আয়েশা! দেখো, যে দুগ্ধবতী উটনীটির দুধ আমরা পান করতাম, যে পাত্রটিতে আমরা খাবার খেতাম এবং যে চাদরটি আমরা পরতাম—এসবই আমরা মুসলিমদের খিলাফতের দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যবহার করেছি। আমার মৃত্যুর পর এগুলো উমর (রা.)-এর কাছে পাঠিয়ে দিয়ো (যাতে তিনি তা বায়তুল মালে জমা করে দেন)।”
উপসংহার
মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)-এর আদর্শ ও দাম্পত্য ধৈর্যের শিক্ষা
হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন— একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় মুসআব বিন উমাইর (রা.) আমাদের সামনে এলেন। তাঁর শরীরে একটি তালি দেওয়া চাদর ছাড়া আর
