ঘাড়ের এক পাশে পা রেখে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে শিখিয়েছিলেন। এটি নারীকে আত্মনির্ভরশীল ও সাহসী করে তোলার এক অনন্য শিক্ষা।
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেন— রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফু সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব তখন হাস্সান বিন সাবিত (রা.)-এর ‘ফার’ নামক দুর্গে অবস্থান করছিলেন। হাস্সান (রা.) তখন অসুস্থ ছিলেন। সাফিয়্যাহ (রা.) বলেন: “এক ইহুদী ব্যক্তি আমাদের দুর্গের চারপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করছিল। তখন বনু কুরাইজাহ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। আমাদের রক্ষা করার মতো সেখানে কেউ ছিল না; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণ তখন পরিখার যুদ্ধে শত্রুর মুখোমুখি ছিলেন এবং আমাদের কাছে ফিরে আসার সুযোগ তাঁদের ছিল না। আমি হাস্সানকে বললাম: ‘দেখুন, এই ইহুদীটি দুর্গের চারপাশে ঘুরছে। আমার ভয় হচ্ছে সে আমাদের দুর্বলতার কথা পেছনের ইহুদীদের জানিয়ে দেবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তো যুদ্ধে ব্যস্ত, তাই আপনি নিচে গিয়ে ওকে হত্যা করে আসুন।’ হাস্সান (রা.) তাঁর অসুস্থতার কারণে অপারগতা প্রকাশ করলেন। তখন আমি (সাফিয়্যাহ) নিজেই কোমরে কাপড় শক্ত করে বাঁধলাম, একটি খুঁটি হাতে নিলাম এবং দুর্গ থেকে নিচে নেমে সেই ইহুদীকে আঘাত করে হত্যা করলাম।”
একজন নারীর কী অসাধারণ সাহস ও দ্বীনি চেতনা! তিনি বুঝেছিলেন যে, এই ইহুদী গুপ্তচর যদি পেছনের ইহুদী শিবিরে খবর পৌঁছে দেয়, তবে মুসলিমদের জন্য বিপদ আরও বেড়ে যাবে। তাই নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি শত্রুকে হত্যা করলেন।
জ্ঞানার্জন ও সওয়াবের প্রতি নারীর ব্যাকুলতা
নারীরা শুধু রণাঙ্গনেই নয়, জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রেও ছিলেন অগ্রণী। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীরা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনে সদা সচেষ্ট থাকতেন। এক নারী এসে নবীজীর কাছে আবেদন করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষেরা আপনার কাছে এসে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়, আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারণ করুন।” নবীজী তাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দিতেন এবং তাদের দ্বীনের শিক্ষা দিতেন।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আনসারী নারীরা কতই না চমৎকার! দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে লজ্জা তাঁদের বাধা হতে পারেনি।” [সহীহ বুখারী]
অবসর সময়ের ভয়াবহতা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: “সুতরাং যখনই তুমি অবসর পাও, তখনই কঠোর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করো।” [সূরাহ আশ-শারহ: ৭] আরেক স্থানে তিনি মুমিনদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: “এবং যখন
