স্বভাবের বৈচিত্র্য। পুরুষের প্রকৃতি এমন যে, সে তার ভালোবাসা ও আবেগ একাধিক নারীর মাঝে বণ্টন করতে পারে। কিন্তু একজন নারীর প্রকৃতি এর সম্পূর্ণ বিপরীত; সে কেবল একজনের মাঝেই বিলীন হতে চায়—যদি না সে বিকৃত রুচির অধিকারী হয়। তাই জান্নাতে নারীরা—দুনিয়ার মতো করেই—কেবল তাদের স্বামীদের জন্যই নির্ধারিত থাকবে। সেখানে তারা তাদের স্বামী ছাড়া অন্য কাউকেই কামনা করবে না এবং তাদের স্বভাবজাত এই তৃপ্তির মাধ্যমেই আল্লাহ তাদের পরম সুখী করবেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
একটি সহীহ হাদীসে আরও এসেছে: “তোমার সন্তানদের মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতার মতো নিঃস্ব অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে, তাদের সচ্ছল ও সম্পদশালী রেখে যাওয়া অনেক উত্তম।”
জান্নাতী হুরদের রূপ-মাধুর্য
নেককার স্বামীর পক্ষে হুরদের এই ব্যাকুলতা ও তাদের সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনে পাঠক যেন তাকওয়া ও পবিত্রতার পথে চলতে আগ্রহী হন, সে লক্ষ্যে নিচে কিছু কাব্যিক পঙক্তি তুলে ধরা হলো:
“শোনো তবে সেই ললনার কথা—অপূর্ব তার হাসি,
যার শুভ্রতায় ম্লান হয়ে যায় ভোরের আলোর রাশি।
নয়ন জুড়ায় যখন সে নারী আসে যে সমুখে চলি,
কর্ণ কুহরে মধু ঝরে যায় যখন সে কথা বলি।
লজ্জায় নুয়ে পড়ে বনলতা হেরি তার তনু-দেহে,
আরক্ত ঊষা মুখ লুকায় গো তাহার হাসির স্নেহে।
বিরহ-কাতর প্রেমিক যদি গো হও তুমি আজ তার,
মিলন ওষুধি বিনা যে তোমার নাহিক প্রতিকার।”
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর বয়ানে জান্নাতী হুর
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম জান্নাতের হুর এবং তাদের কাছে পৌঁছানোর পথ বর্ণনা করে বলেন:
“হে রূপসী হুরের পাণিপ্রার্থী! ওগো জান্নাত-পিয়াসী মন!
জানো কি কাহার রূপের সুধায় জুড়াবে ও-দুনয়ন?
যদি জানতে তবে সঁপে দিতে আজ ঈমানের সবটুকুন,
যদি চিনতে তবে আঁখিপল্লবে হতো তব পথ চলা।
দ্রুত চলো আজ, সময় যে নেই—পথ চলা হোক ত্বরান্বিত,
এ তো ক্ষণকাল, এক লহমায় সফর হবে গো শেষ।
মিলনের সাধ জাগাও হৃদয়ে, প্রস্তুত করো মোহরানা,
সামর্থ্য তোমার যতক্ষণ আছে—হও আজ দেওয়ানা।”
জান্নাতবাসীদের বিবরণ
তিনি আরও বলেন:
“তাঁবুর পানে চেয়ে দেখো তবে—সেথা হাসে শশধর,
কলঙ্কহীন সেই জোছনায় আলোকিত চরাচর।
তারা আনতনয়না, চাহনি তাদের ফেরাবে না কভু আর,
নিজ স্বামী বিনু অন্য যুবকে নেই কো আসক্তি তার।
হেরি সেই রূপ অবাক মুমিন বলবে পরম সুখে—
‘সুবহানাল্লাহ! এমন সুষমা কে দিল তোমার
