তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

দিন যা মণি-মুক্তা দিয়ে নির্মিত, যেখানে থাকবে না কোনো হট্টগোল আর থাকবে না কোনো ক্লান্তি।’ [সহীহ মুসলিম]

সায়্যিদাহ খাদিজা (রা.) ছিলেন নবী (সা.)-এর প্রথমা স্ত্রী। তিনি ছিলেন কুরাইশ বংশের অন্যতম বুদ্ধিমতী এবং শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারিণী। নবুয়ত প্রাপ্তির আগেই নবী (সা.)-এর আমানতদারী ও মহান চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে তিনি তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সেই কঠিন দিনগুলোতে খাদিজা (রা.) নবী (সা.)-কে যে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিলেন, তা ইসলামের ইতিহাসে অদ্বিতীয়। প্রথমবার ওহী নিয়ে ফেরার পর নবী (সা.) যখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কাঁপছিলেন, তখন খাদিজা (রা.) তাঁকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন: “আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; কারণ আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, রিক্তহস্তদের উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেন এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ান।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম] একজন আদর্শ স্ত্রী কীভাবে স্বামীর শক্তির উৎস হতে পারেন, খাদিজা (রা.) তার চিরন্তন দৃষ্টান্ত।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যথার্থই বলেছেন: “দয়াময়ী নারী পুরুষকে প্রেরণা দেয়, বুদ্ধিমতী নারী তার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে এবং রূপসী নারী তাকে মোহাচ্ছন্ন করে; কিন্তু কেবল সেই মমতাময়ী ও নমনীয় নারীই পুরুষের মন জয় করতে পারে।” তবে মনে রাখা প্রয়োজন, আদর্শ স্ত্রী হওয়া মানে কোনো কাজ করানোর চাতুর্য নয়, বরং স্বামীর সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা।
এর একটি চমৎকার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত মেলে কাজী শুরাইহ ও ইমাম শাবী (রহ.)-এর কথোপকথনে। ইমাম শাবী তাঁর দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরাইহ বললেন: “বিগত বিশ বছরে আমি আমার স্ত্রীর এমন কোনো আচরণ দেখিনি যা আমাকে রাগান্বিত করতে পারে।” শাবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে শুরাইহ বাসর রাতের ঘটনাটি বর্ণনা করেন:
বাসর রাতে আমি আমার স্ত্রীর মাঝে এক অপার্থিব শ্রী দেখতে পেলাম। আমি শুকরিয়া আদায়ে দুই রাকাত নামাজ পড়লাম, দেখলাম সে-ও আমার সাথে নামাজ পড়ল। নামাজ শেষে সে অতি বিনয়ের সাথে বলল: ‘আবু উমাইয়া, আপনি আমার জন্য অচেনা; সুতরাং আপনার যা প্রিয় তা আমাকে বলুন যেন আমি তা করতে পারি, আর যা আপনার অপছন্দ তা-ও বলে দিন যেন আমি তা বর্জন করতে পারি। এখন যেহেতু আমি আপনার অর্ধাঙ্গিনী, তাই আল্লাহ আপনাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা-ই পালন করুন—হয় সদ্ভাবে পাশে রাখুন, নয়তো সহৃদয়তার সাথে বিদায়

« <
/ 351
> »