সইমূন।” (নেককার ব্যক্তিরা যেন তোমাদের খাবার খায়, ফেরেশতারা যেন তোমাদের জন্য রহমতের দোয়া করে এবং রোজাদাররা যেন তোমাদের এখানে ইফতার করে।) [আত-তহাবী]।
বিলাসিতা বর্জন: সোনা ও রূপার পাত্রের নিষেধাজ্ঞা
বিয়ের আয়োজনে বিলাসিতা ও আভিজাত্যের প্রদর্শনী ইসলাম পছন্দ করে না। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন: “তোমরা রেশম ও দীবাজ (দামী রেশমী কাপড়) পরিধান করো না এবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না, এমনকি এর থালা-বাসনে আহারও করো না।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]। নবীজী আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি সোনা বা রূপার পাত্রে আহার বা পান করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন টেনে নেয়।
এই নিষেধাজ্ঞার একটি বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর জীবন থেকে। তিনি একবার এক অগ্নিউপাসকের বাড়িতে থাকাকালীন রূপার পাত্রে ‘ফালূদাজ’ নামক মিষ্টি খাবার পরিবেশন করা হলে তা খেতে অস্বীকৃতি জানান। পাত্রটি বদলিয়ে কাঠের পাত্রে নেওয়ার পরই তিনি খাবারটি গ্রহণ করেন। [বায়হাকী]। সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার অন্যতম হিকমত হলো বিলাসিতা ও আভিজাত্যের দম্ভ চূর্ণ করা। এছাড়া এই ধরণের বিলাসিতা একটি জাতির শৌর্য-বীর্য ও কঠোরতা সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
মিতব্যয়িতা ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন
আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশনা দিয়েছেন এভাবে— “তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা একেবারে প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে।” [সূরাহ আল-ইসরা: ২৯]। মুমিনদের গুণাবলী সম্পর্কে তিনি আরও বলেন— “তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের ব্যয় হয় এ দুয়ের মধ্যবর্তী।” [সূরাহ আল-ফুরক্বান: ৬৭]।
আমি এমন অনেক ধনী পরিবারকে চিনি যারা সোনা-রূপার পাত্রে খেয়ে বিলাসিতা করত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপচয় ও অহংকারের কারণে তারা নিঃস্ব হয়ে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। প্রকৃত মুমিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিয়ের মতো বরকতময় অনুষ্ঠানে, অপচয় পরিহার করে ভারসাম্য বজায় রাখে। কারণ জীবনের মেরুদণ্ডই হলো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।
জাহেলী প্রথা বর্জন ও নববী আদর্শে অভিনন্দন
দাম্পত্য জীবনে অভিনন্দন জানানোর ক্ষেত্রেও ইসলাম আমাদের পরিশীলিত শিক্ষা দিয়েছে। জাহেলী যুগে বিয়ের অভিনন্দনে বলা হতো— ‘বিল রেফা ওয়াল বনীন’ (অর্থাৎ তোমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক এবং তোমরা পুত্র
