তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা রাখা অবস্থায় আলিঙ্গন (মোবাশারাত) করতেন। [সহীহ মুসলিম]।
তবে এখানে একটি বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। রোজা অবস্থায় চুম্বনের বৈধতা থাকলেও সেই সব স্বামীর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ, যারা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। চুম্বনের পর যদি মিলনে লিপ্ত হয়ে পড়েন, তবে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারা হিসেবে টানা দুই মাস রোজা রাখতে হবে; তাতে সক্ষম না হলে ষাট জন মিসকিনকে খাওয়াতে হবে। তাই নিজের ইচ্ছাশক্তি দুর্বল হলে রোজা অবস্থায় এটি বর্জন করাই শ্রেয়।

চুম্বনের শারীরিক প্রভাব ও বিজ্ঞানের দৃষ্টি
ডক্টর আরনো চুম্বনের শারীরিক প্রভাব সম্পর্কে বলেন—একজন যুবক যখন তার স্ত্রীকে চুম্বন করে, তখন তার শরীরে দ্রুত কিছু রাসায়নিক ও জৈবিক পরিবর্তন ঘটে। সর্বপ্রথম মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এক ধরণের পদার্থ নিঃসৃত করে যা বৃক্কের (কিডনি) ওপর অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে রক্তে প্রচুর রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে পড়ে—রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে ওঠে।
বিজ্ঞানের এই তথ্যগুলো চুম্বনের প্রবল শারীরিক প্রভাবকে প্রমাণ করে। সম্ভবত এই পরিবর্তনের কারণেই প্রখ্যাত অস্ট্রিয়ান চিকিৎসক ‘জেনোব’ বলেছেন যে, ভালোবাসার উষ্ণতা প্রেমিককে ঠাণ্ডা বা সর্দি-কাশির প্রকোপ থেকে রক্ষা করে কিংবা অন্তত এর তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

সামাজিক শিষ্টাচার ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সতর্কতা
ইসলাম বন্ধু-বান্ধবী বা বেগানা নারী-পুরুষের মাঝে চুম্বন প্রথাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম কেবল ‘মুসাফাহা’ বা করমর্দনের অনুমতি দিয়েছে এবং এতে গুনাহ মাফের সুসংবাদ দিয়েছে। পিতা তাঁর কন্যাকে কিংবা ভাই তাঁর বোনকে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে স্নেহবশত চুম্বন করতে পারলেও তার মাঝে এক পবিত্র পর্দা ও পরম মমতা কাজ করে, যা কামনার উর্ধ্বে। পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে নারীদের মাঝেও দেখা হলে বা বিদায় নেওয়ার সময় চুম্বনের এক সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে, যা অনেক সময় অস্বাভাবিক মোহের জন্ম দিতে পারে।
এছাড়া চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, চুম্বনের মাধ্যমে যক্ষ্মা ও সিফিলিসের (ফিরিঙ্গি রোগ) মতো ছোঁয়াচে রোগ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়াতে পারে। মুখ থেকে রক্তে পৌঁছানো এই জীবাণু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে পঙ্গুত্ব, মানসিক বিকৃতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। তাই এই বিশেষ আচরণটি কেবল স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্কের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা নিরাপদ ও বাঞ্ছনীয়।
রমযান

« <
/ 351
> »