সতরের কতটুকু আমরা ঢাকব আর কতটুকু উন্মুক্ত রাখতে পারব?” তিনি বললেন: “তোমার স্ত্রী অথবা তোমার অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত অন্য সবার নিকট থেকে তোমার সতর রক্ষা করো।” [সুনান আবী দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ]
আমি পুনরায় আরজ করলাম: “হে আল্লাহর রাসূল! যদি লোকেরা (পুরুষেরা) একত্রে থাকে (তবে বিধান কী)?” তিনি বললেন: “যদি সম্ভব হয় তবে তোমার সতর যেন কেউ দেখতে না পায়, সে চেষ্টাই করবে।”
আমি আবার বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কেউ নির্জনে একা থাকে?” তিনি বললেন: “মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।” [সুনান আবী দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও হাকেম]
হাদীসের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা:
এই হাদীসের নির্দেশটি মূলত শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল, এটি কেবল বাহ্যিক ওয়াজিব বা আবশ্যকতা বোঝায় না। ইমাম বুখারী, নাসাঈ, শাফি‘ঈ এবং ইবনে জারীর (রহ.)-এর মতে—মানুষ উলঙ্গ থাকুক বা পোশাক পরিহিত, আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রহ.)-এর ‘আদাবুয যিফাফ’ রিসালাটি দেখা যেতে পারে।
অন্যের সতরের দিকে তাকানোর নিষেধাজ্ঞা:
হাদীস শরীফে এসেছে: “কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সতরের দিকে না তাকায় এবং কোনো নারী যেন অন্য নারীর সতরের দিকে না তাকায়। আর কোনো পুরুষ যেন অন্য কোনো পুরুষের সাথে এক কাপড়ে (গা ঘেঁষে) না শোয়, তেমনি কোনো নারীও যেন অন্য নারীর সাথে এক কাপড়ে না শোয়।” [সহীহ মুসলিম]
এখানে ‘এক কাপড়ে শোয়া’ বলতে কোনো আবরণ ছাড়াই একজনের দেহের সাথে অন্যজনের দেহ সরাসরি স্পর্শ করাকে বোঝানো হয়েছে।
দুই মিলনের মাঝে গোসলের গুরুত্ব ও বিধান
দাম্পত্য মিলনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা ও সজীবতা বজায় রাখা সুন্নাহর দাবি। এ প্রসঙ্গে নবী (সা.) বলেছেন:
“তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলন করে এবং পুনরায় তা করতে চায়, তবে সে যেন দুই মিলনের মাঝে অযু করে নেয়।” অন্য বর্ণনায় আছে: “নামাজের অযুর মতো অযু করে নেয়।” [সহীহ মুসলিম ও সুনান আবী দাউদ]
আবু রাফে‘ (রা.) থেকে বর্ণিত— একদা নবী (সা.) তাঁর সকল স্ত্রীর ঘরে পর্যায়ক্রমে গমন করলেন এবং প্রত্যেকের কাছেই (মিলনের পর) আলাদাভাবে গোসল করলেন। আমি বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একবারেই সব শেষে একটি গোসল
