করে যে ইবনে উমর (রা.) মলদ্বারে মিলনকে চরম ঘৃণা করতেন। সুতরাং কিছু ভুল সূত্রে তাঁর প্রতি যে বৈধতার অভিযোগ দেওয়া হয়, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
দুঃখের বিষয় হলো, কিছু মুফাসসির (বিশেষ করে শিয়ারা) এই হাদীসগুলোকে দুর্বল বলে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো কুরআনের অপব্যাখ্যা করে; যা শরীয়ত, বুদ্ধি বা রুচিবোধ—কোনোটিই সমর্থন করে না। সুতরাং তাদের এই বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে ধোঁকা খাওয়া উচিত নয়। মলদ্বারে মিলন করা স্ত্রীকে ব্যভিচারের দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর, কারণ এতে তার প্রকৃত যৌন চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়।
ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে মিলন হারাম
ইসলামী শরীয়াহ যেমন দাম্পত্য মিলনকে ইবাদত ও সওয়াবের কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে, তেমনি ঋতুকালীন সময়ে নারীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতাও প্রদান করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
“তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন: ‘তা হলো অশুচি। কাজেই তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়, ততক্ষণ তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে, তখন তাদের কাছে সেভাবেই গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন’।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২২]
হাদীসসমূহের কঠোর সতর্কতা ও শিষ্টাচার
ঋতুকালীন সময়ে মিলন করা কেবল গুনাহ নয়, বরং এটি ঈমানের পরিপন্থী কাজ। নবী (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে মিলন করল অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে মিলন করল কিংবা কোনো গণকের কাছে গিয়ে তার কথা বিশ্বাস করল—সে মূলত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে (কুরআন), তা অস্বীকার করল।” [সুনান আবী দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও হাকেম; হাদীসটি সহীহ]
তবে এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ এই নয় যে, স্ত্রীর সাথে সাধারণ সান্নিধ্য ত্যাগ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাইতেন, তখন তাঁর লজ্জাস্থানের ওপর একটি কাপড় দিয়ে দিতেন; অতঃপর তিনি যা ইচ্ছা (আলিঙ্গন বা চুম্বন) করতেন। [সুনান আবী দাউদ ও বায়হাকী; সহীহ]
ইহুদী প্রথার বিপরীতে ইসলামের ভারসাম্য:
ইহুদীদের নিয়ম ছিল—এমনকি জাহেলী যুগে যারা তাদের অনুকরণ করত তাদেরও নিয়ম ছিল যে, তারা ঋতুবতী নারীর সাথে এক দস্তরখানে বসে খেত না এবং একই ঘরে বাস করত না। ইসলাম এই অমানবিক প্রথা নিষিদ্ধ
