তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

কোনো গণকের কাছে গিয়ে তার কথা বিশ্বাস করল—সে মূলত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে (কুরআন), তা অস্বীকার করল।” [সুনান আবী দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ; হাদীসটি সহীহ]
উমর (রা.)-এর শঙ্কা ও সমাধান:
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি!’ রাসূল (সা.) বললেন: “কিসে তোমাকে ধ্বংস করল?” উমর (রা.) বললেন: ‘গত রাতে আমি আমার সওয়ারি উল্টে দিয়েছি!’ (অর্থাৎ তিনি পেছন দিক থেকে স্ত্রীর যোনিপথে মিলন করেছিলেন, যা তাঁর কাছে ব্যতিক্রম মনে হওয়ায় তিনি ভীত হয়েছিলেন)। রাসূল (সা.) কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত নাযিল করলেন: “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।” অর্থাৎ সামনে থেকে হোক বা পেছন থেকে হোক—তবে মলদ্বার এবং ঋতুস্রাবের সময় মিলন থেকে বেঁচে থাকো। [সুনানুন নাসাঈ ও তিরমিযী; হাদীসটি হাসান]
মর্মান্তিক বিভ্রান্তি ও নবীজী (সা.)-এর উত্তর:
এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে স্ত্রীর মলদ্বারে মিলন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী (সা.) প্রথমে সংক্ষেপে বললেন: “এটি হালাল।” লোকটি যখন চলে যেতে উদ্যত হলো, তখন তিনি তাকে ডাকলেন (কিংবা কাউকে পাঠিয়ে ডাকালেন) এবং জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি কী বললে? কোন ছিদ্রে? যদি তা পেছন দিক থেকে যোনিপথে হয়, তবে তা জায়েজ। আর যদি মলদ্বারে হয়, তবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না; সুতরাং তোমরা স্ত্রীদের মলদ্বারে মিলন করো না।” [সুনানুন নাসাঈ ও ত্বহাবী; হাদীসটি সহীহ]
কুসংস্কারের অন্ধকার:
এখানে লক্ষণীয় যে, ইহুদীদের একটি অদ্ভুত কুসংস্কার তৌরাত ও তালমুদে পাওয়া যায়। তারা মনে করত স্ত্রীর সাথে মলদ্বারে মিলন জায়েজ; কারণ তাদের মতে স্ত্রী হলো বাজার থেকে কেনা এক টুকরো গোশতের মতো, যা কেউ চাইলে সেদ্ধ করে খেতে পারে আবার চাইলে পুড়িয়েও খেতে পারে! নাউযুবিল্লাহ।
ইবনে উমর (রা.) ও ‘তাহমীয’ প্রসঙ্গ
সাঈদ বিন ইয়াসার বলেন: আমি ইবনে উমর (রা.)-কে বললাম— ‘আমরা দাসী ক্রয় করি এবং তাদের সাথে ‘তাহমীয’ করি।’ তিনি বললেন: ‘তাহমীয কী?’ আমি বললাম— ‘তাদের মলদ্বারে মিলন করা!’ তিনি বললেন: ‘ছি ছি! কোনো মুসলিম কি এমনটি করতে পারে?!!’ [সুনানুন নাসাঈ; এর সনদ সহীহ]
শেখ আলবানী (রহ.) তাঁর ‘আদাবুয যিফাফ’ গ্রন্থে বলেন—এই বর্ণনাটি প্রমাণ

« <
/ 351
> »