আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে—যা মূলত তাঁর গুণাবলী, যোগ্যতা এবং শরীয়াহর বেঁধে দেওয়া নিয়ম-নীতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
﴿الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ﴾
“পুরুষরা নারীদের ওপর অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তাঁদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা তাঁদের সম্পদ ব্যয় করে।” [সূরাহ আন-নিসা: ৩৪]
এই অভিভাবকত্বের যেমন মর্যাদা আছে, তেমনি এর পেছনে রয়েছে বিশাল দায়িত্ব। একজন পুরুষ তাঁর স্ত্রীর প্রতিটি বিষয়ের জন্য পূর্ণ দায়িত্বশীল।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদীস পরিবারের এই দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি বলেছেন—
“তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। আমীর (রাষ্ট্রপ্রধান) একজন দায়িত্বশীল, পুরুষ তাঁর পরিবারের ওপর দায়িত্বশীল, আর নারী তাঁর স্বামীর ঘর ও সন্তানের ওপর দায়িত্বশীল। সুতরাং তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
এটি এমন এক দায়বদ্ধতা যা ইসলামী সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির ওপর অর্পিত। এখানে কেউই নিজ নিজ অঙ্গনের দায়িত্ব থেকে মুক্ত নয়। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন মানে কেবল আমোদ-প্রমোদ বা অনর্থক সময় কাটানো নয়; বরং জীবন হলো অত্যন্ত সিরিয়াস এক কর্মযজ্ঞ, সাধনা ও বিনির্মাণ—যেখানে প্রতিটি মানুষকে তাঁর কর্মের জন্য সচেতন ও দায়বদ্ধ থাকতে হয়।
ইসলাম যেমন নারীর অধিকার রক্ষা এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে, তেমনি নারী যাতে তাঁর জীবনের প্রকৃত ভূমিকা ও লক্ষ্য বুঝতে পারেন সেদিকেও নির্দেশনা দিয়েছে। শরীয়াহর বেঁধে দেওয়া সীমানার মধ্যে থেকে তিনি যেন তাঁর মহৎ দায়িত্ব পালন করতে পারেন—একজন আদর্শ জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পুরুষের পাশে থেকে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং জীবনকে সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য

« <
/ 87
> »