সম্মান করতেন এবং কুশলাদি জিজ্ঞেস করে বলতেন— ‘তোমরা কেমন আছো? তোমাদের দিনকাল কেমন যাচ্ছে? আমাদের (সাথে দেখা হওয়ার) পর তোমরা কেমন ছিলে?’ বৃদ্ধা উত্তর দিতেন— ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার বাবা-মা আপনার ওপর উৎসর্গিত হোন, আমরা ভালো আছি।’ বৃদ্ধা চলে যাওয়ার পর আইশাহ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন— ‘আপনি এই বৃদ্ধাকে এতখানি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং এমন সম্মান করছেন যা অন্য কাউকে করতে দেখিনি?’ নবী (সা.) উত্তর দিলেন— ‘সে খাদীজার জীবিত থাকাকালীন আমাদের কাছে আসত। (জেনে রেখো!) পুরনো ভালোবাসা ও সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের অঙ্গ’।” [আল-মুস্তাদরাক; ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ]
কখনো কোনো কারণে স্ত্রী রাগান্বিত হতে পারেন কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়ে স্বামীর থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেন। এমন মুহূর্তে একজন মুসলিম স্বামীর উচিত তাঁর সুন্দর চরিত্র, ধৈর্য এবং নারীর সহজাত মেজাজ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। আল্লাহর রাসূল (সা.) এভাবেই তাঁর স্ত্রীদের সামলাতেন; এমনকি তাঁদের কেউ কেউ পুরো দিন তাঁর সাথে কথা বলা বন্ধ রাখতেন (মান-অভিমান করতেন), তবুও তিনি ধৈর্য হারাতেন না।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর একটি বর্ণনা এ বিষয়ে আমাদের চোখ খুলে দেয়। তিনি বলেন—
“আমরা কুরাইশরা ছিলাম এমন এক জাতি যারা নারীদের ওপর কর্তৃত্ব করতাম। কিন্তু যখন আমরা মদীনায় এলাম, তখন দেখলাম আনসাররা এমন এক জাতি যাদের স্ত্রীরা তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে (অর্থাৎ তারা তাদের কথা বলে)। এরপর আমাদের স্ত্রীরাও তাঁদের স্ত্রীদের দেখে শিখতে শুরু করল। একদিন আমার স্ত্রী আমার কোনো কথার প্রতিবাদ করল। আমি বিষয়টি অপছন্দ করলে সে বলল— ‘আমি তোমার কথার প্রতিবাদ করায় তুমি অবাক হচ্ছ কেন? আল্লাহর কসম! নবী (সা.)-এর স্ত্রীরাও তাঁর কথার প্রতিবাদ করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ তো সারাদিন রাত পর্যন্ত তাঁর
