আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

না।” বাধ্য হয়ে তিনি রোজা ভেঙে খেলেন। রাতে আবূ দারদা ইবাদতে দাঁড়াতে চাইলে সালমান (রা.) তাঁকে ঘুমানোর নির্দেশ দিলেন। এভাবে রাতের শেষ প্রহরে সালমান (রা.) তাঁকে নিয়ে ইবাদতে দাঁড়ালেন এবং বললেন—
“নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের হক আছে, তোমার নিজের নফসের হক আছে এবং তোমার পরিবারেরও হক আছে। সুতরাং প্রত্যেকের হক যথাযথভাবে আদায় করো।” পরে নবী (সা.)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন— “সালমান সত্য বলেছে।” [সহীহ বুখারী]
একজন মুত্তাকী, সচেতন ও মার্জিত মুসলিমের বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি দাম্পত্য জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে স্ত্রীর সাথে আনন্দ-রসিকতা করেন। তিনি তাঁর জীবনসঙ্গিনীর সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে মাঝে মাঝে কৌতুক ও হৃদ্যতাপূর্ণ খুনসুটি করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ হলেন মহানবী (সা.)। তিনি ইসলামের ভিত্তি স্থাপন, উম্মাহ গঠন এবং জিহাদ পরিচালনার মতো বিশাল সব দায়িত্ব পালনের মাঝেও স্ত্রীদের সাথে কোমল আচরণ, হাসিখুশি থাকা এবং আনন্দ-রসিকতা করতে ভুলতেন না।
সায়েদাহ আইশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনা এর চমৎকার উদাহরণ। তিনি বলেন—
“আমি নবী (সা.)-এর জন্য ‘হারীরাহ’ (এক ধরনের সুস্বাদু খাবার) রান্না করে আনলাম। নবী (সা.) তখন আমার ও সওদাহ (রা.)-এর মাঝখানে বসা ছিলেন। আমি সওদাহকে বললাম— ‘খাও’। তিনি অস্বীকার করলে আমি বললাম— ‘হয় তুমি খাবে, নয়তো আমি তোমার মুখে এই খাবার মাখিয়ে দেব।’ তিনি তবুও খেতে চাইলেন না। তখন আমি হাড়ি থেকে খাবার নিয়ে তাঁর মুখে মাখিয়ে দিলাম। নবী (সা.) এটি দেখে হাসলেন। এরপর তিনি নিজের হাত সওদাহর দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং (রসিকতা করে) বললেন— ‘তুমিও ওর মুখে মাখিয়ে দাও’।” অন্য বর্ণনায় এসেছে— “রাসূলুল্লাহ (সা.) সওদাহর জন্য নিজের হাঁটু নিচু করে দিলেন যেন তিনি আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে পারেন। সওদাহ পাত্র থেকে খাবার নিয়ে আমার মুখে মাখিয়ে দিলেন

« <
/ 87
> »