আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

একবার নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের কাছে অত্যন্ত মলিন বেশে ও জীর্ণ পোশাকে এলেন। তাঁর এমন অবস্থা দেখে তাঁরা কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বামীর সম্পর্কে বললেন— “সে সারারাত নামাজ পড়ে আর সারাদিন রোজা রাখে (অর্থাৎ স্ত্রীর প্রতি তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই)।” নবী (সা.) বিষয়টি জানতে পেরে উসমান ইবনে মাজউনকে তিরস্কার করলেন এবং বললেন— “আমার জীবনের মাঝে কি তোমার জন্য কোনো আদর্শ নেই?” তিনি বললেন, “অবশ্যই আছে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই।” এরপর তাঁর স্ত্রী সুন্দর পোশাকে সুবাসিত হয়ে নবী-পরিবারে এসেছিলেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন—
“হে উসমান! আমাদের ওপর বৈরাগ্যবাদ (সংসার ত্যাগ) লিখে দেওয়া হয়নি। আমার মধ্যে কি তোমার জন্য আদর্শ নেই? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তাঁর সীমারেখা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি সচেতন।” [হিলইয়াতুল আউলিয়া ও তাবাক্বাত ইবনে সা’দ]
রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের মাঝে এই মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ফলে ইবাদত এবং পারিবারিক জীবনের এই সামঞ্জস্য তাঁদের চরিত্রে মিশে গিয়েছিল। তাঁরা একে অপরকে এই নসীহত করতেন। ইমাম বুখারী (রা.) আবূ জুহাইফাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন— নবী (সা.) সালমান (রা.) ও আবূ দারদা (রা.)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দিয়েছিলেন। সালমান (রা.) যখন আবূ দারদার বাড়িতে বেড়াতে গেলেন, দেখলেন উম্মু দারদা (রা.) অত্যন্ত সাধারণ ও অবিন্যস্ত পোশাকে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন— “তোমার এই অবস্থা কেন?” উম্মু দারদা (রা.) বললেন— “আপনার ভাই আবূ দারদার দুনিয়াদারির কোনো প্রয়োজন নেই (তিনি দিন-রাত ইবাদতে মগ্ন)।” এরপর আবূ দারদা এলেন এবং তাঁর জন্য খাবার আনলেন। সালমান (রা.) তাঁকে সাথে নিয়ে খেতে চাইলেন, কিন্তু আবূ দারদা রোজা ছিলেন। সালমান (রা.) বললেন, “তুমি না খাওয়া পর্যন্ত আমি খাব

« <
/ 87
> »