তা পুরো পরিবারে এক অভাবনীয় বরকত বয়ে আনে। তাঁর উপস্থিতিতে ঘর আনন্দ, প্রফুল্লতা, মমতা ও তৃপ্তিতে ভরে ওঠে। তিনি কেবল একজন দর্শক নন; বরং স্ত্রীকে কোনো কাজে ব্যস্ত দেখলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। স্ত্রীর ক্লান্তি, একঘেয়েমি বা মনের সংকীর্ণতা অনুভব করলে তিনি মিষ্ট ভাষায় তাঁর মন ভালো করার চেষ্টা করেন। স্ত্রীকে এই অনুভূতি দান করেন যে, সে একজন শক্তিশালী, দয়ালু ও উদার স্বামীর ছায়াতলে আছে—যিনি তাঁকে রক্ষা করেন, তাঁর যত্ন নেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর বৈধ সব প্রয়োজন মেটান।
স্বামী যেমন স্ত্রীর কাছ থেকে সৌন্দর্য প্রত্যাশা করেন, একজন প্রকৃত মুসলিম স্বামীও শরীয়াহর সীমারেখায় থেকে স্ত্রীর সামনে নিজেকে পরিপাটি ও সুসজ্জিত রাখেন। তিনি তাঁর সময়ের একটি বড় অংশ স্ত্রীকে দেন; কেবল নিজের পড়াশোনা, কাজ, শখ বা বন্ধুদের নিয়ে মগ্ন থাকেন না। ইসলাম নারীর এই অধিকার নিশ্চিত করেছে যে, সে তার স্বামীর সান্নিধ্য উপভোগ করবে। এমনকি ইবাদতের মতো শ্রেষ্ঠ কাজেও স্বামী যেন পুরো সময় ব্যয় করে স্ত্রীকে অবহেলা না করেন, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর ঘটনাটি। নবী (সা.) যখন তাঁর অতিরিক্ত ইবাদতের কথা জানতে পারলেন, তখন তাঁকে বললেন—
“আমি কি খবর পাইনি যে তুমি সারাদিন রোজা রাখো এবং সারারাত নামাজে দাঁড়িয়ে থাকো?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!” নবী (সা.) বললেন— “এমন করো না। রোজা রাখো আবার বিরতিও দাও; রাতে নামাজ পড়ো আবার ঘুমাও। নিশ্চয়ই তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার চোখের হক আছে, তোমার স্ত্রীর হক আছে এবং তোমার মেহমানেরও হক আছে।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর স্ত্রী খাওলা বিনতু হাকীম (রা.)
