আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

“আর তোমরা তাঁদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো। যদি তোমরা তাঁদের অপছন্দ করো, তবে হতে পারে যে তোমরা এমন একটি জিনিসকে অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।” [সূরাহ আন-নিসা: ১৯]
এই পবিত্র আয়াতটি একজন সত্যনিষ্ঠ মুসলিমের হৃদয়কে স্পর্শ করে, তাঁর রাগের আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং স্ত্রীর প্রতি তাঁর চরম বিরাগ বা ঘৃণা প্রশমিত করে। এভাবেই ইসলাম বৈবাহিক সম্পর্কের সুদৃঢ় বন্ধনকে ছিঁড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং এই পবিত্র সম্পর্ককে কেবল সাময়িক আবেগ বা চপল মনের খেয়ালখুশির শিকার হতে দেয় না। আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সেই উক্তিটি কতই না মহান! এক ব্যক্তি যখন তাঁর স্ত্রীকে অপছন্দ করার কারণে তালাক দিতে চাইল, তখন তিনি তাকে বলেছিলেন— “আফসোস তোমার জন্য! ঘর কি কেবল ভালোবাসার ওপরই নির্মিত হয়? তবে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা (রعاية) ও লোকলজ্জার (التدمم) খাতিরে সহমর্মিতা কোথায় গেল?”
ইসলামে দাম্পত্যের এই চুক্তিটি কেবল তুচ্ছ আবেগ বা পৈশাচিক লালসার চেয়ে অনেক বড় ও মর্যাদাপূর্ণ। একজন প্রকৃত মুসলিমের পৌরুষ, মহানুভবতা, ধৈর্য ও চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব তাঁকে এমন স্তরে নিয়ে যায় যে, তিনি নিজের অপছন্দের স্ত্রীর সাথেও পশুর মতো আচরণ বা ব্যবসায়িক লাভের চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে অত্যন্ত মানবিক ব্যবহার করেন। বরং তিনি তাঁর রবের নির্দেশ পালনার্থে স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার করেন; কারণ তিনি জানেন যে তাঁর মহাজ্ঞানী রব যা জানেন, তিনি তা জানেন না। মানুষ অনেক সময় এমন জিনিসকে ঘৃণা করে যাতে অফুরন্ত কল্যাণ ও বরকত লুকানো থাকে। তাই একজন সচেতন মুসলিম তাঁর ভালোবাসা ও ঘৃণা—উভয় ক্ষেত্রেই পরিমিতিবোধ বজায় রাখেন। তিনি অন্ধের মতো ভালোবাসেন না, আবার ঘৃণা করতে গিয়ে অকৃতজ্ঞ ও রূঢ় হয়ে পড়েন না; বরং উভয় অবস্থায় তিনি থাকেন ন্যায়নিষ্ঠ ও ভারসাম্যপূর্ণ।

« <
/ 87
> »