তোমাদের বিছানায় পা না রাখে এবং তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি না পায়। আর তোমাদের ওপর তাঁদের অধিকার হলো—তোমরা তাঁদের অন্ন ও বস্ত্রের সর্বোত্তম ব্যবস্থা করবে।” [সুনানুত তিরমিযী; হাদীসটি হাসান সহীহ]
একজন সত্যনিষ্ঠ ও সচেতন মুসলিম স্বামী যখন এই ওসীয়ত শোনেন, তখন তিনি এর মাঝে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও কর্তব্যের এক প্রজ্ঞাপূর্ণ নববী নির্দেশনা খুঁজে পান। যেখানে নারীদের প্রতি দয়া, মমতা ও ইহসানের এক সুদৃঢ় কাঠামো দেওয়া হয়েছে, যা কোনো মুসলিম পরিবারে স্ত্রীর ওপর জুলুম বা ক্ষতির চিন্তাটুকুও অবশিষ্ট রাখে না।
স্ত্রীর প্রতি এই হিদায়াত ও ওসীয়তগুলো এখানেই থেমে থাকেনি; বরং রাসূলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীর প্রতি সদাচরণকারী স্বামীকে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন—
“মুমিনদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই পূর্ণ ঈমানের অধিকারী, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা তাঁদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম।” [সুনানুত তিরমিযী; হাদীসটি হাসান সহীহ]
একবার অনেক নারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরিবারের কাছে এসে তাঁদের স্বামীদের (কঠোর আচরণের) বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) পুরুষদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন—
“মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে অনেক নারী তাঁদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। (জেনে রেখো!) ওই পুরুষরা তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি নয়।” [সুনান আবূ দাউদ, সুনানুন নাসায়ী ও সুনান ইবনে মাজাহ; হাফিজ ইবনে হাজার এর সনদকে সহীহ বলেছেন]
নারীর অধিকার রক্ষা ও তাঁদের মর্যাদাদানের ক্ষেত্রে ইসলাম এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এমনকি স্বামী যদি তাঁর স্ত্রীকে অপছন্দও করেন, তবুও তাঁর সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারীর ইতিহাসে এই পর্যায়ের সম্মান ও ইনসাফ ইসলাম ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। মহান আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে ঘোষণা করেছেন—
﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا﴾
