আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

সাথে এমন কিছু শরীক করতে বাধ্য করে, যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না; কিন্তু পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে। আর তার পথ অনুসরণ করো, যে আমার অভিমুখী হয়েছে। অতঃপর আমারই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমি তোমাদের জানিয়ে দেব যা তোমরা করতে।” [সূরাহ লুুকমান: ১৪-১৫]

পিতামাতা হলেন নিকটতম আত্মীয় এবং প্রিয়তম আপনজন। কিন্তু তাঁদের মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ হওয়া সত্ত্বেও তা আক্বীদার (ধর্মীয় বিশ্বাস) বন্ধনের পরেই আসে। সুতরাং তাঁরা যদি মুশরিক হন এবং সন্তানকে শিরক করার আদেশ দেন, তবে সে ক্ষেত্রে তাঁদের আনুগত্য করা যাবে না; কারণ স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা বৈধ নয়। এখানে আদর্শিক বন্ধন অন্য সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। তবে আনুগত্য না করলেও সন্তান তাঁদের প্রতি সদাচরণ, তাঁদের যত্ন নেওয়া এবং ইহসান করার দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হয় না।

তাই একজন প্রকৃত মুসলিম সর্বাবস্থায় পিতামাতার প্রতি অনুগত থাকেন। আল্লাহর বিধানের সীমানার ভেতরে থেকে তিনি তাঁদের সুখী করতে এবং তাঁদের হৃদয়ে আনন্দ দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। তাঁদের জন্য সুস্বাদু খাবার, উত্তম পোশাক, আরামদায়ক বাসস্থান এবং সমসাময়িক জীবনমান ও সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী বৈধ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেন না। আর এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে হলো—তাঁদের সাথে অত্যন্ত কোমল ভাষায় কথা বলা এবং হাসিমুখে তাঁদের সামনে উপস্থিত হওয়া; যেন সেই চেহারায় ফুটে ওঠে অফুরন্ত ভালোবাসা, মমতা, বিশ্বস্ততা এবং পিতামাতার সেই বিশাল ঋণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ।

একজন প্রকৃত মুসলিমের পিতামাতার প্রতি সদাচরণের এই ধারা তাঁদের মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। তিনি তাঁদের পক্ষ থেকে দান-সদকাহ করেন এবং পরম আকুতি নিয়ে আল্লাহর শেখানো ভাষায় তাঁদের জন্য দু‘আ করেন:

﴿رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا﴾
“হে

« <
/ 87
> »