আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” [সূরাহ আল-ইসরা: ২৪]

বস্তুত, পিতামাতার প্রতি সদাচরণের ক্ষেত্রে এটিই ইসলামের শ্বাশত নির্দেশনা এবং এটিই হেদায়েতপ্রাপ্ত একজন আদর্শ মুসলিমের পরিচয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে—আজকের বস্তুবাদী জীবন আর আধুনিক সভ্যতার চাকচিক্যে অন্ধ হয়ে যাওয়া মুসলিমরা কি এই আদর্শ অনুসরণ করছে?

বর্তমানে আমাদের জীবন ও মনোযোগের সবটুকু জুড়েই থাকে স্ত্রী আর সন্তান। পিতামাতার গুরুত্ব ও যত্ন সেখানে অনেক নিচে নেমে গেছে। তাঁদের কপালে যত্নের সামান্য ছিটেফোঁটা তখনই জোটে, যখন সন্তানরা প্রকৃত অর্থেই মুত্তাকী ও নেককার হয়। এর মূল কারণ হলো—পাশ্চাত্যের আধুনিক সামাজিক ব্যবস্থা অনেক মুসলিমের চিন্তাধারাকে গ্রাস করে নিয়েছে। এই পশ্চিমা ব্যবস্থায় বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতার সেবা করা কিংবা তাঁদের নিঃসঙ্গতা ও অবমাননা থেকে রক্ষা করার কোনো স্থান নেই।

পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণায় প্রভাবিত একজন মানুষ কেবল নিজের স্ত্রী-সন্তান নিয়েই ভাবে। সে পেছনে ফিরে সেই ত্যাগী প্রজন্মের দিকে একবারও তাকায় না, যারা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তাকে বড় করেছে এবং তিল তিল করে তাকে জীবনের জন্য গড়ে তুলেছে। সে যখন আরামদায়ক বাসস্থান, দামী পোশাক, সুস্বাদু খাবার কিংবা কোনো আনন্দ ভ্রমণের কথা চিন্তা করে, তখন তার হৃদয়ে কেবল স্ত্রী-সন্তানের চেহারা ভেসে ওঠে। ভুলেও তার মনে এই চিন্তা আসে না যে, তার পিতামাতারও এই সুখে ভাগ পাওয়ার কথা ছিল; অথচ তাঁরা এখন সন্তানের হাতের একটু পরশ আর যত্নের জন্য সবচেয়ে বেশি তৃষ্ণার্থ।

পিতামাতার প্রতি ভালোবাসা উছলে পড়া হৃদয়, অবারিত দানের হাত, মধুর মমতা মাখানো কথা আর স্নিগ্ধ হাসিমাখা সদাচরণ—এগুলো একজন মুসলিমের মৌলিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। জীবনের জটিলতা যতই বাড়ুক, জীবনযাত্রা যতই আধুনিক হোক কিংবা আমদানিকৃত বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের যতই আচ্ছন্ন করুক—একজন মুসলিমের জীবন থেকে এই মহান গুণটি কোনোভাবেই হারিয়ে

« <
/ 87
> »