আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

আমলের মাঝখানে স্থান দিয়েছেন: সময়মতো সালাত আদায় এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি আর জিহাদ হলো ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া। চিন্তা করে দেখুন, রাসূল (সা.) পিতামাতাকে কতখানি মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানিত স্থানে আসীন করেছেন!
আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে জনৈক ব্যক্তি এসে হিজরত ও জিহাদের ওপর বাই‘আত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে প্রতিদান আশা করছিলেন। কিন্তু রাসূল (সা.) তাকে গ্রহণ করার আগে কিছুটা থামলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন—
“তোমার পিতামাতার কেউ কি জীবিত আছেন?” লোকটি বললেন— “হ্যাঁ, বরং তাঁরা উভয়েই জীবিত।” রাসূল (সা.) পুনরায় বললেন— “তবে কি তুমি আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান চাও?” লোকটি বললেন— “হ্যাঁ।” তখন দয়ালু ও পরম দয়াশীল রাসূল (সা.) বললেন— “তবে তোমার পিতামাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদের সাথে উত্তম সাহচর্য বজায় রাখো (সেবা করো)।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে— এক ব্যক্তি রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন—
“তোমার পিতামাতা কি জীবিত?” সে বলল— “হ্যাঁ।” তিনি বললেন— “তবে তাঁদের সেবা করেই জিহাদের সওয়াব হাসিল করো (তাঁদের মধ্যেই জিহাদ করো)।”
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন যুদ্ধের ময়দানের জন্য বাহিনী প্রস্তুত করছিলেন, তখনো তাঁর সেই কোমল মানবিক হৃদয় পিতামাতার দুর্বলতা ও তাঁদের সন্তানের প্রয়োজনীয়তার কথা ভুলে যাননি। তৎকালীন সময়ে যখন যুদ্ধের জন্য প্রতিটি হাতের প্রয়োজন ছিল, তখনো তিনি এই স্বেচ্ছাসেবক ব্যক্তিকে জিহাদ থেকে ফিরিয়ে দিলেন এবং অত্যন্ত নম্রভাবে পিতামাতার যত্নে মনোনিবেশ করতে বললেন। এটি মূলত মানুষের সুখের জন্য আল্লাহর দেওয়া সেই পূর্ণাঙ্গ, ভারসাম্যপূর্ণ ও অনন্য জীবনব্যবস্থায় পিতামাতার সেবা ও তাঁদের দায়িত্ব পালনের গুরুত্বেরই প্রতিফলন।
সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন,

« <
/ 87
> »