ও অক্ষম; সুতরাং সাবধান! তোমার মুখ থেকে যেন বিরক্তি বা অবজ্ঞার একটি ‘উহ’ শব্দও না বের হয়। বরং তাঁদের সাথে কথা বলার আগে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করো, যেন তোমার প্রতিটি কথা তাঁদের মনে প্রশান্তি দেয় এবং তাঁদের চোখ জুড়ায়। তাঁদের সামনে তোমার অবস্থান হতে হবে পরম শ্রদ্ধা ও বিনম্রচিত্তের—যেন এক প্রশান্ত ও অনুগত দাস। আর শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সর্বদা আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য দু‘আ করো যখন তুমি ছিলে রিক্ত, অসহায় ও দুর্বল; আর তাঁরা পরম মমতায় তোমাকে গড়ে তুলেছেন।
উন্মুক্ত হৃদয় ও আলোকিত অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন একজন মুসলিম আল্লাহর এই চমৎকার বাণীগুলো থেকে সর্বদা অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন এবং পিতামাতার প্রতি সম্মান ও সদাচরণ বৃদ্ধি করেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেছেন—
﴿وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا﴾ “তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না; আর পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো।” [সূরাহ আন-নিসা: ৩৬]
﴿وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا﴾ “আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।” [সূরাহ আল-আনকাবূত: ৮]
পিতামাতার সদাচরণ সম্পর্কে গবেষণাকারী ব্যক্তিমাত্রই দেখতে পাবেন যে, কোরআনের আয়াতের পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অসংখ্য হাদীস এই বিষয়টিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যেকোনো অজুহাতেই পিতামাতার অবাধ্য হওয়া বা তাঁদের সাথে মন্দ আচরণ করা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—আমি নবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?” তিনি বললেন— “সময়মতো সালাত আদায় করা।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “তারপর কোনটি?” তিনি বললেন— “পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করা।” আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, “তারপর কোনটি?” তিনি বললেন— “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
মহান শিক্ষক রাসূলুল্লাহ (সা.) পিতামাতার প্রতি সদাচরণকে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি
