ক্ষেত্রে এবং বার্ধক্য ও অক্ষমতার বয়সে তাঁদের সাথে একজন মুসলিমের আচরণের যে সুউচ্চ নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে, তা সত্যিই অনন্য। সূর্যালোকে উদ্ভাসিত এই দ্বীনের আগমনের আগে মানবতার ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না:
﴿وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا * وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا﴾ “তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাঁদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদের ‘উহ’ পর্যন্ত বলো না এবং তাঁদের ধমক দিও না; বরং তাঁদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। আর মমতাবশে তাঁদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো এবং বলো—হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” [সূরাহ আল-ইসরা: ২৩-২৪]
এটি একজন মুসলিমের জন্য রব্বুল আলামীনের চিরন্তন ঘোষণা এবং এক অনিবার্য বিধান, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এখানে আল্লাহর ইবাদতের সাথে পিতামাতার প্রতি সদাচরণকে এমন সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়েছে, যা পিতামাতার মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পৃথিবীর কোনো প্রজ্ঞাবান, সংস্কারক বা নীতিশাস্ত্রী কোনোদিন এই মর্যাদার সমতুল্য কিছু কল্পনাও করতে পারেননি।
এই আয়াতের বর্ণনাভঙ্গি কেবল পিতামাতার প্রতি সদাচরণের একটি উজ্জ্বল ছবিই আঁকে না, বরং সন্তানদের হৃদয়ে দয়া, মমতা ও করুণার অনুভূতি জাগ্রত করে। ‘ইম্মা ইয়াবলুগান্না ইনদাকা’ (যদি তাঁরা তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হন)—এই ‘ইনদাকা’ বা ‘তোমার কাছে’ শব্দটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ হলো—তাঁরা এখন তোমার রক্ষণাবেক্ষণে, তোমার আশ্রয়ে এবং তোমার পাহারায়। তাঁরা এখন দুর্বল, বৃদ্ধ
