আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

রাখার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

তবে মানুষের এই স্বভাবটি যদি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং মানুষ এতে বাড়াবাড়ি শুরু করে, তখন তা এক ভয়ংকর ও ঘৃণ্য মানসিক ব্যাধিতে রূপ নেয়। তখন এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিটি হয়ে ওঠে চরম অহংকারী ও দাম্ভিক। সে তার সমকক্ষদের সামনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গর্ব করে বেড়ায়; অথচ বাস্তবে সে যেসব গুণ ও মর্যাদার দাবি করে, তা থেকে সে থাকে যোজন যোজন দূরে।

ঠিক এই জায়গাতেই এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির লাগাম টেনে ধরতে এবং তার আত্মমুগ্ধতার উন্মাদনা প্রশমিত করতে দ্বীন, তারবিয়াত ও নৈতিকতার গুরুত্ব প্রকাশ পায়। এগুলোই মানুষের পদক্ষেপকে ভারসাম্য, বিচক্ষণতা ও বিনয়ের পথে পরিচালিত করে।

আসলে দ্বীন হলো এই জীবনের প্রতিটি সদ্গুণ ও মর্যাদার এক অফুরন্ত ও প্রবহমান ঝরনাধারা। যুগের পর যুগ ধরে মানবতার মাঝে উচ্চতর মূল্যবোধ, উত্তম অভ্যাস এবং সঠিক আচরণের যে রূপরেখাগুলো তারবিয়াত ও নৈতিকতার মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে, তা মূলত ওই ঐশী ঝরনাধারা থেকেই উৎসারিত।

মানবজাতির জীবনধারা পর্যবেক্ষণ করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মানুষের মধ্যে উন্নতির চেয়ে অবনতি এবং সুশৃঙ্খল থাকার চেয়ে উচ্ছৃঙ্খল হওয়ার প্রবণতাই বেশি। কারণ, উপরে ওঠার চেয়ে নিচে নামা বরাবরই সহজ আর সংযমের চেয়ে লাগামহীনতা সবসময়ই বেশি মুখরোচক। তাই যখনই মানুষের অন্তরে গাফলত বা উদাসীনতা বাসা বাঁধে এবং তাদের পা সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত হতে চায়, তখনই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একজন শাসনকর্তা বা পথপ্রদর্শকের প্রয়োজন হয়।

এ কারণেই চিন্তাবিদ ও লেখকদের ওপর এটি আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা দ্বীনের এই সুমহান মূল্যবোধগুলো ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হবেন এবং মানুষের সামনে তা অত্যন্ত সহজবোধ্য ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করবেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের এই জীবনে যে উজ্জ্বল, দীপ্তিময় ও

« <
/ 87
> »