আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

আমি এই বিদ্যায় অজ্ঞ থাকতে চাই না।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম— ‘আপনি কি এটি বংশবৃক্ষ (ডায়াগ্রাম) আকারে চান নাকি গদ্য আকারে?’ তিনি বললেন— ‘বংশবৃক্ষ মনে রাখা কঠিন, আমি এমন কিছু চাই যা আমি মুখস্থ করতে পারি।’ আমি বললাম— ‘আপনার আদেশ শিরোধার্য।’ এরপর আমি তাঁর জন্য একটি কিতাব রচনা করলাম যার নাম দিলাম ‘আল-ফাখরী’ এবং তা নিয়ে তাঁর কাছে গেলাম। তিনি যখন কিতাবটি দেখলেন, তখন তিনি নিজের মসনদ (গদি) ছেড়ে নিচে চাটাইয়ের ওপর বসলেন এবং আমাকে বললেন— ‘তুমি এই গদির ওপর বসো।’ আমি এটিকে অনেক বড় মনে করে বললাম— ‘আমি তো আপনার খাদেম।’ তখন তিনি আমাকে প্রচণ্ড ধমক দিলেন এবং চিৎকার করে বললেন— ‘আমি তোমাকে যেখানে বসতে বলছি সেখানেই বসো!’ আল্লাহর কসম, তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাবে আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না এবং তিনি যেখানে আদেশ দিলেন সেখানেই বসলাম। এরপর তিনি আমার সামনে বসে আমার কাছ থেকে কিতাবটি পড়তে শুরু করলেন এবং যা বুঝতে পারছিলেন না তা আমাকে জিজ্ঞেস করে বুঝে নিলেন—যতক্ষণ না কিতাবটি পড়া শেষ হলো। পড়া শেষ করে তিনি বললেন— ‘এখন তুমি যেখানে ইচ্ছা বসো। কারণ এটি একটি বিদ্যা, যাতে তুমি আমার উস্তাদ আর আমি তোমার ছাত্র। আর উস্তাদের সামনে ছাড়া ছাত্রের অন্য কোথাও বসা আদবের খেলাফ।’ এরপর আমি আমার জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালাম এবং তিনি তাঁর মসনদে বসলেন। তখন আমি তাঁর সামনে আগের মতো সাধারণ ছাত্রের মতো বসে তাঁর কাছে পড়া শুরু করলাম।”
ইয়াকূত আল-হামাভী এই ঘটনা উল্লেখ করার পর বলেন—
“আল্লাহর কসম! এটি উত্তম আদবের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, বিশেষ করে ওই মহান মর্যাদাবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে।”
আহ! এই মহান মনীষীদের হৃদয়ে ইলম বা জ্ঞান কতই না প্রিয় ছিল! তাঁদের কাছে

« <
/ 87
> »