আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

তিনি বললেন— “কারণ তার পক্ষ থেকে হওয়া ভুলটি হবে সবচেয়ে কুৎসিত।”
বিখ্যাত মুফাসসির ও বহু কিতাবের রচয়িতা ইমাম ফখরুদ্দীন আর-রাযী (রহ.)—যিনি তাঁর যুগে ইলমে কালাম ও যুক্তিবিদ্যায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম ছিলেন এবং ৬০৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন—তাঁর পাণ্ডিত্যের খ্যাতি ও সুখ্যাতি চারদিকে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তিনি যেখানেই যেতেন সেখানেই উলামা ও তলাবাদের ভিড় লেগে যেত। তিনি যখন ‘মার্ভ’ (Merv) শহরে এলেন, তখন বহু আলেম ও ছাত্র তাঁর সান্নিধ্য লাভের জন্য ছুটে এলেন। সেই ছাত্রদলের মধ্যে এমন একজন তরুণও ছিলেন যিনি বংশবিদ্যায় (ইলমুল আনসাব) বিশেষ পারদর্শী ছিলেন, অথচ তাঁর বয়স তখনও বিশ পূর্ণ হয়নি। ইমাম ফখরুদ্দীন আর-রাযী যখন বুঝতে পারলেন যে ওই ছাত্রটি বংশবিদ্যায় দক্ষ, অথচ ইমামের নিজের এই বিদ্যায় দখল কম, তখন তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে ওই ছাত্রের কাছে ছাত্রত্ব গ্রহণ করার প্রস্তাব দিলেন। তিনি ওই ছাত্রকে শিক্ষকের আসনে বসালেন আর নিজে তাঁর সামনে ছাত্র হয়ে বসলেন। এটি ছিল ইমাম রাযীর বিনয় ও মহত্ত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা তাঁর মহান মর্যাদাকে এক বিন্দুও ক্ষুণ্ন করেনি।
ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ইয়াকূত আল-হামাভী তাঁর ‘মু‘জামুল উদাবা’ কিতাবে আজিযুদ্দীন ইসমাঈল ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী আল-হুসাইনীর জীবনীতে এই বিরল ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। ইয়াকূত নিজে আজিযুদ্দীনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন এবং তাঁর জীবনী বিস্তারিত লিখেছেন। আজিযুদ্দীন নিজেই ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন—
“ইমাম ফখরুদ্দীন আর-রাযী যখন মার্ভ শহরে এলেন, তখন তাঁর প্রভাব ও গাম্ভীর্য ছিল আকাশচুম্বী। তাঁর সামনে কেউ কথা বলার বা উচ্চস্বরে শ্বাস নেওয়ার সাহস করত না। আমি তাঁর কাছে যাতায়াত শুরু করলাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন— ‘আমি চাই তুমি আমার জন্য তালিবিয়্যীনদের (আলী রা.-এর বংশধর) বংশলতিকা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব লিখে দাও যেন আমি তা দেখতে পারি; কারণ

« <
/ 87
> »