আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

সে অসন্তুষ্ট হয়।” [সহীহ বুখারী]
নিশ্চয়ই আল্লাহর দা‘ঈগণ ইসলামের এই ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যমপন্থা অনুসরণের মাধ্যমে এমন বিভ্রান্তিকর খাদে পড়া থেকে নিজেদের রক্ষা করেন।

খ. তাঁর বুদ্ধি (عقله)
মুসলিমের কাছে জ্ঞানার্জন একটি ফরয ও সম্মানের বিষয়: একজন মুসলিম বিশ্বাস করেন যে, জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটানো এবং মহাবিশ্বে আল্লাহর নিদর্শনাবলী নিয়ে গবেষণা করা একটি ফরয দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয।” [সুনান ইবনে মাজাহ; হাসান সূত্রে বর্ণিত]
সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত দেহে প্রাণ থাকবে এবং ধমনীতে রক্ত প্রবাহিত হবে, ততক্ষণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রাখা তাঁর জন্য অপরিহার্য। জ্ঞানার্জনের পথে মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসাহ হলো এই যে—আল্লাহ তা‘আলা আলিম বা জ্ঞানীদের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন। তিনি কেবল তাঁদেরই তাঁর প্রকৃত ‘খাশিয়াত’ বা ভীতি ও তাকওয়ার সাথে খাস করেছেন:
﴿إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ﴾ “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে।” [সূরাহ ফাতির: ২৮]
অর্থাৎ যাদের চিন্তা আলোকিত হয়েছে এবং এই মহাবিশ্ব ও জীবনের সৃষ্টিতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা যাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁরাই আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করতে পারেন। এরপর আল্লাহ জ্ঞানীদের মর্যাদা তুলে ধরে বলেন—
﴿هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُوا الْأَلْبَابِ﴾ “বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরাহ আয-যুমার: ৯]
সাফওয়ান ইবনে আসসাল আল-মুরাদী (রা.) নবী (সা.)-এর কাছে মসজিদে এসে বললেন—‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি জ্ঞান অন্বেষণ করতে এসেছি।’ নবী (সা.) বললেন—
“জ্ঞান অন্বেষণকারীকে স্বাগতম! নিশ্চয়ই জ্ঞান অন্বেষণকারীকে ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে ঘিরে রাখে। এরপর তাঁর অন্বেষিত বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা এক স্তরের ওপর আরেক স্তর

« <
/ 87
> »