আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

নিজের অবস্থা পরিবর্তন করা, যাতে তোমার (মলিন) অবস্থা দেখে তোমার বন্ধু ব্যথিত না হয়।”
এটি স্পষ্ট যে, আল্লাহর পথে যারা দাওয়াতের কাজ করেন, তাঁদের বাহ্যিক অবয়ব হওয়া উচিত অন্যদের তুলনায় অধিকতর সুন্দর, মার্জিত ও আকর্ষণীয়। এতে তাঁরা মানুষের হৃদয়ে খুব সহজে জায়গা করে নিতে পারেন এবং তাঁদের দাওয়াত অবলীলায় মানুষের অন্তরে রেখাপাত করে।
বস্তুত তাঁরা যখন নির্জনে থাকেন, তখনও তাঁদের নিজ দেহ, পোশাক, নখ ও চুলের পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তাঁরা সেই সহজাত স্বভাব বা ফিতরাতের ডাককেই সাড়া দেন, যার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“পাঁচটি বিষয় ফিতরাতের (মানুষের সহজাত স্বভাব) অন্তর্ভুক্ত: খতনা করা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছোট করা।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
মানবিক ফিতরাতের এই সৌন্দর্য রক্ষা করা এমন এক বিষয় যা এই দ্বীনকে মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছে এবং উচ্চরুচি ও সুস্থ স্বভাবের অধিকারীদের এতে আকৃষ্ট করেছে।
তবে মনে রাখতে হবে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের এই যত্ন যেন একজন প্রকৃত মুসলিমকে বাড়াবাড়ি বা অতি-সাজসজ্জার দিকে ধাবিত না করে—যাতে ইসলামের সেই ভারসাম্যপূর্ণ বিধান ক্ষুণ্ন হয়। একজন সচেতন মুসলিম সব কিছুতেই পরিমিতিবোধ বজায় রাখেন যেন জীবনের কোনো একটি দিক অন্য দিকের ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে। তাঁর মনে রাখা উচিত যে, ইসলাম যেমন সৌন্দর্যের আদেশ দিয়েছে, তেমনি আবার সাজসজ্জার পেছনে এমনভাবে অন্ধ হতেও নিষেধ করেছে যা মানুষকে এই নশ্বর পৃথিবীর দাসে পরিণত করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন—
“ধ্বংস হোক দীনারের দাস, ধ্বংস হোক দিরহামের দাস, ধ্বংস হোক মখমল ও রেশমি বস্ত্রের (চাদরের) দাস। যদি তাকে দেওয়া হয় তবে সে সন্তুষ্ট থাকে, আর যদি না দেওয়া হয় তবে

« <
/ 87
> »