هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ﴾ “হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো। তোমরা পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। আপনি বলুন—আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিযিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে? বলুন—পার্থিব জীবনে এগুলো মুমিনদের জন্য (বৈধ), আর কিয়ামতের দিন তা হবে কেবল তাদেরই জন্য। এভাবেই আমি জ্ঞানীদের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৩১-৩২]
সহীহ মুসলিমে ইবনে মাস‘ঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল—মানুষ তো চায় তার পোশাক সুন্দর হোক এবং তার জুতো জোড়া সুন্দর হোক (তবে কি এটিও অহংকার)? নবী (সা.) বললেন—‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা’।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৯১]
সাহাবীয়ে কিরাম এবং তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীগণ এ বিষয়টি এভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন। এ কারণেই ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) অত্যন্ত পরিপাটি ও সুন্দর পোশাক পরতেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। পোশাক-আশাক ও বাহ্যিক অবয়ব সুন্দর রাখার ব্যাপারে তিনি অন্যদেরও উৎসাহিত করতেন। একদিন তিনি তাঁর মজলিসের এক ব্যক্তিকে জরাজীর্ণ ও ছিঁড়ে যাওয়া পোশাকে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে একান্তে ডেকে এক হাজার দিরহাম দিলেন যেন সে নিজের অবস্থা পরিবর্তন করে। লোকটি বলল—‘আমি যথেষ্ট সচ্ছল এবং নেয়ামতের মধ্যেই আছি, আমার এই অর্থের প্রয়োজন নেই।’ তখন ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) অনুযোগের সুরে তাকে বললেন—
“তোমার কাছে কি এই হাদীসটি পৌঁছেনি যে—‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর তাঁর দেওয়া নেয়ামতের ছাপ দেখতে পছন্দ করেন?’ সুতরাং তোমার উচিত
