আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

তুলনা করেছেন। ইমাম মালিক ‘মুওয়াত্তা’য় আতা ইবনে ইয়াসার (রহ.) থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন—
“রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি উস্কোখুস্কো চুল ও দাড়ি নিয়ে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাতের ইশারায় তাকে (বাইরে গিয়ে) চুল ও দাড়ি ঠিক করে আসতে বললেন। লোকটি তা-ই করল এবং ফিরে এল। তখন নবী (সা.) বললেন—‘তোমাদের কারো শয়তানের মতো উস্কোখুস্কো চুলে আসার চেয়ে এটিই কি অধিক উত্তম নয়?’”
অগোছালো ও অবিন্যস্ত চুলের ব্যক্তিকে ‘শয়তানের’ সাথে তুলনা করা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসলাম বাহ্যিক সৌন্দর্য ও পরিপাটি অবস্থার প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয় এবং মলিন ও কুৎসিত অবয়বকে কতটা ঘৃণা করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের বাহ্যিক রূপের এই সৌন্দর্যবোধের ব্যাপারে সর্বদা সচেতন করতেন। যখনই তিনি কাউকে জরাজীর্ণ অবস্থায় বা অবিন্যস্ত চুলে দেখতেন, তখনই তার এই উদাসীনতা ও নিজের প্রতি অযত্নের প্রতিবাদ জানাতেন। ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন—
“রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের দেখতে এলেন। তখন তিনি এক উস্কোখুস্কো চুলবিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেখলেন যার চুলগুলো চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। তিনি বললেন—‘এই লোকটির কি এমন কিছু জুটল না যা দিয়ে সে তার চুল বশে (বিন্যস্ত) রাখতে পারে?!’”
সুন্দর অবয়ব
একজন প্রকৃত মুসলিম তাঁর পোশাক ও সাজসজ্জার প্রতি লক্ষ্য রাখেন। তাই আপনি তাঁকে সর্বদা পরিপাটি ও মার্জিত পোশাকে দেখবেন—তবে তাতে কোনো বিলাসিতা বা অপচয় থাকবে না। তাঁর চেহারা দেখে মানুষের চোখ জুড়াবে এবং মন প্রশান্ত হবে। তিনি মানুষের সামনে জরাজীর্ণ বা কদর্য বেশে উপস্থিত হন না; বরং বাইরে বের হওয়ার আগে নিজেকে পরীক্ষা করে নেন এবং পরিমিতভাবে সাজসজ্জা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল পরিবারের জন্যই নয়, বরং তাঁর সাহাবীগণের সামনে যাওয়ার আগেও নিজেকে পরিপাটি করে নিতেন।
ইমাম কুরতুবী (রহ.)

« <
/ 87
> »