আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে—
﴿قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ﴾ “বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিযিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৩২]
মাকহুল (রহ.)-এর সূত্রে আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন—
“রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একদল সাহাবী দরজায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি তাঁদের কাছে বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন। ঘরের ভেতর একটি পাত্রে পানি ছিল, তিনি সেই পানির দিকে (আয়নার মতো) তাকাতে লাগলেন এবং তাঁর দাড়ি ও চুল ঠিক করে নিলেন। আয়িশাহ (রা.) বলেন—আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও এমনটি করছেন? তিনি বললেন—‘হ্যাঁ, একজন মানুষ যখন তার ভাইদের কাছে বের হয়, সে যেন নিজেকে পরিপাটি করে নেয়। কেননা আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন’।”
একজন মুসলিম এই সবকিছুই করেন ইসলামের সেই মধ্যমপন্থার তত্ত্ব অনুযায়ী, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। এটি এমন এক পরিমিতিবোধ যেখানে কোনো অতিশয্য (ইফরাত) নেই, আবার কোনো অবহেলাও (তাফরীত) নেই:
﴿وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا﴾ “আর যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের পস্থা হয় এ দুয়ের মধ্যবর্তী।” [সূরাহ আল-ফুরক্বান: ৬৭]
ইসলাম চায় তার অনুসারীরা, বিশেষ করে দ্বীনের দা‘ঈরা যখন সমাজে বিচরণ করবেন, তখন তারা যেন হয় এক আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব (শামাহ); কোনো কদর্য অবয়ব নয়—যাকে দেখে মানুষের চোখ কুঁচকে যায় কিংবা মন বিরূপ হয়ে ওঠে। নিজেকে জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় উপস্থাপন করা ইসলামের শিক্ষা নয়; এমনকি তা যদি যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) বা বিনয়ের দোহাই দিয়েও করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন যুহদ ও বিনয়ের শ্রেষ্ঠ আদর্শ, তবুও তিনি সুন্দর পোশাক
