অবস্থা এমনই ছিল; আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন—
“আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেহের সুঘ্রাণের চেয়ে উত্তম কোনো আম্বর, মিশক বা অন্য কোনো সুগন্ধি কক্ষনো ঘ্রাণ নেইনি।” [সহীহ মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শরীরের পরিচ্ছন্নতা, পোশাকের পারিপাট্য এবং তাঁর গায়ের সুঘ্রাণ ও ঘামের সুগন্ধি সম্পর্কে অগণিত বর্ণনা ও হাদীস রয়েছে। যেমন—তিনি যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, সেই ব্যক্তি সারাদিন তার হাতে সেই সুগন্ধি অনুভব করত। তিনি কোনো শিশুর মাথায় হাত রাখলে সেই সুগন্ধির কারণেই অন্য শিশুদের মাঝ থেকে তাকে আলাদাভাবে চিনে নেওয়া যেত। ইমাম বুখারী তাঁর ‘তারীখে কাবীর’-এ জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) কোনো পথ দিয়ে অতিক্রম করার পর অন্য কেউ সেই পথ দিয়ে গেলে তাঁর গায়ের সুঘ্রাণ থেকেই বুঝে ফেলত যে তিনি এই পথে গিয়েছেন। একবার তিনি আনাস (রা.)-এর বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন এবং ঘামছিলেন। তখন আনাসের মা একটি শিশি নিয়ে তাঁর ঘাম সংগ্রহ করতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন—‘এটি আপনার ঘাম, আমরা এটি আমাদের সুগন্ধিতে মেশাব। আর এটি সর্বোত্তম সুগন্ধি’।” [সহীহ মুসলিম]
হায়! এই মহান রাসূলের হেদায়েত থেকে সামান্য আলো গ্রহণের কী ভীষণ প্রয়োজন আজ মুসলিম উম্মাহর!
এই মহান রাসূলের সুন্নাহর আরেকটি দিক হলো চুলের যত্ন নেওয়া এবং ইসলামের নির্ধারিত পন্থায় তা সুন্দর রাখা। আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যার চুল আছে, সে যেন তার যত্ন নেয়।” [সুনান আবূ দাউদ]
ইসলামি রুচিবোধ অনুযায়ী চুলের যত্ন নেওয়ার অর্থ হলো—তা পরিষ্কার রাখা, আঁচড়ানো, সুগন্ধি লাগানো এবং সুন্দর আকৃতিতে রাখা।
নবী (সা.) চুল উস্কোখুস্কো, আলুথালু ও অবিন্যস্ত রাখা অপছন্দ করতেন; যা দেখলে মনে হয় যেন কোনো উন্মত্ত ভূত। কুৎসিত রূপের কারণে তিনি এমন অবয়বকে শয়তানের সাথে
