আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

পা থেকে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াক যা অন্যদের জন্য কষ্টদায়ক হয়। এই পরিচ্ছন্নতাকে পূর্ণতা দিতে তিনি সুগন্ধিও ব্যবহার করেন। বর্ণিত আছে যে, সায়্যিদুনা উমর (রা.) বলতেন—
“যে ব্যক্তি তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ সুগন্ধি ক্রয়ে ব্যয় করল, সে অপচয়কারী হিসেবে গণ্য হবে না।”
একজন সচেতন মুসলিম তাঁর মুখের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সদা সজাগ থাকেন, যেন কেউ তাঁর থেকে কষ্টদায়ক কোনো দুর্গন্ধ না পায়। এ জন্য তিনি মেসওয়াক, ব্রাশ কিংবা অন্যান্য উন্নত পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন দাঁত পরিষ্কার করেন। তিনি নিয়মিত তাঁর মুখের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনবোধে অন্তত বছরে একবার দন্তচিকিৎসক কিংবা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন; যাতে তাঁর মুখ গহ্বর সর্বদা রোগমুক্ত ও নিঃশ্বাস সুগন্ধময় থাকে।
উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে—
“রাসূলুল্লাহ (সা.) দিনে বা রাতে যখনই ঘুমাতেন, ঘুম থেকে জেগে ওযুর আগে অবশ্যই মেসওয়াক করতেন।” [মুসনাদু আহমাদ ও সুনান আবূ দাউদ; হাসান সূত্রে বর্ণিত]
মুখের পরিচ্ছন্নতার প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বারোপ এতটাই ছিল যে তিনি বলেছেন—
“যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রতিটি সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
আয়িশাহ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কোন কাজ করতেন? তিনি উত্তরে বললেন—
“মেসওয়াক।” [সহীহ মুসলিম]
এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কিছু মুসলিমকে এসব বিষয়ে উদাসীন দেখা যায়, অথচ এগুলো ইসলামের মূল নির্যাস ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা নিজেদের মুখ, শরীর ও পোশাকের পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নশীল হয় না। ফলে যখন তারা মসজিদে কিংবা জিকির ও ইলমী মজলিসে উপস্থিত হয়, তখন তাদের গায়ের উৎকট গন্ধে উপস্থিত ভাইদের কষ্ট হয় এবং সেই বরকতময় মজলিসকে ঘিরে রাখা ফেরেশতারাও কষ্ট পায়। আশ্চর্যের

« <
/ 87
> »