(সা.)-এর সেই ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলেন—
“মানুষ তার পেটের চেয়ে মন্দ আর কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। যদি একান্তই প্রয়োজন হয় (বেশি খাওয়ার), তবে যেন সে তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখে।” [মুসনাদু আহমাদ ও সুনানুত তিরমিযী; হাসান ও সহীহ সূত্রে বর্ণিত]
উমর (রা.)-এর এই উক্তিটিও একজন মুসলিমের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা স্বরূপ:
“তোমরা পানাহারে অতিভোজন থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর, রোগের আকর এবং সালাতে অলসতা সৃষ্টিকারী। তোমরা পানাহারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ (মধ্যপন্থা) অবলম্বন করো; কারণ তা শরীরের জন্য অধিক কল্যাণকর এবং অপচয় থেকে দূরে রাখে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অতিভোজনকারী স্থূলকায় ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। আর কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংস হয় না, যতক্ষণ না সে তার প্রবৃত্তির চাহিদাকে দ্বীনের ওপর প্রাধান্য দেয়।” [কানযুল উম্মাল: ৮/৪৭]
একজন মুসলিম মাদকদ্রব্য ও ক্ষতিকর নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করেন এবং হারাম বস্তু থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখেন। তিনি দ্রুত ঘুমানোর এবং দ্রুত ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলেন। অসুস্থতা ছাড়া তিনি অকারণে ওষুধ সেবন করেন না। বরং তাঁর জীবনপদ্ধতির প্রতিটি নিয়মই তাঁর প্রাকৃতিক সুস্বাস্থ্য ও কর্মতজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়।
সচেতন মুসলিম জানেন যে—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, “দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।” [সহীহ মুসলিম] এ কারণে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজের শরীরকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
শারীরিক ব্যায়াম চর্চা
প্রকৃত মুসলিম সাধারণত সুস্থ ও বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী হন। কারণ তিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক সব ধরনের হারাম ও মন্দ খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকেন। এছাড়া রাত জাগা এবং শরীর ও ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করে দেয়—এমন বাজে অভ্যাসগুলো তিনি এড়িয়ে চলেন।
