আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

সুষমার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একজন মুসলিম দা‘ঈর ব্যক্তিত্ব।
একজন প্রকৃত, সচেতন ও বিচক্ষণ মুসলিম তাঁর দেহ, মন এবং আত্মার মাঝে এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখেন। তিনি এই তিনটির কোনো একটির জন্য অন্যটির অধিকার নষ্ট করেন না; বরং প্রত্যেকটির প্রাপ্য হক আদায় করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর পাথেয় হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রজ্ঞাময় শিক্ষা। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) যখন তাঁর ইবাদতে কৃচ্ছ্রসাধন ও বাড়াবাড়ির কথা জানতে পারলেন, তখন তাঁকে বললেন—
“আমি কি সংবাদ পাইনি যে, তুমি সারা দিন রোজা রাখো এবং সারা রাত নফল সালাত আদায় করো? তিনি বললেন—হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূল (সা.) বললেন—এমনটি করো না। রোজা রাখো আবার বিরতিও দাও; রাতে সালাত আদায় করো আবার ঘুমাও। কারণ তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার চোখের হক আছে, তোমার স্ত্রীর হক আছে এবং তোমার মেহমানেরও হক আছে।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
এখন প্রশ্ন হলো—একজন মুসলিম তাঁর শরীর, বুদ্ধি এবং আত্মার মধ্যে এই ভারসাম্য কীভাবে অর্জন করবেন?
ক. তাঁর শরীর
আহার ও পানীয় গ্রহণে পরিমিতিবোধ: একজন মুসলিম তাঁর শারীরিক সুস্থতা ও বলিষ্ঠতার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল থাকেন। এ কারণে তিনি আহার ও পানীয় গ্রহণে পরিমিতিবোধ বজায় রাখেন। তিনি পেটুক বা লোভাতুর মানুষের মতো খাবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন না; বরং ততটুকুই গ্রহণ করেন যা তাঁর মেরুদণ্ড সোজা রাখতে এবং সুস্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা অটুট রাখতে সহায়ক হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর পথপ্রদর্শক হলো মহান আল্লাহর এই সুদৃঢ় বাণী—
﴿وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ﴾ “তোমরা পানাহার করো কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৩১]
সালাফদের অনুকরণে তিনি রাসূলুল্লাহ

« <
/ 87
> »