আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

ভূমিকা
ইসলাম চায় প্রতিটি মুসলিম যেন মানুষের মাঝে একটি বিশেষ চিহ্নের মতো উজ্জ্বল ও দীপ্যমান হয়ে থাকে; তাদের বেশভূষা, বাহ্যিক অবয়ব, চালচলন এবং প্রতিটি কাজে তারা যেন হয় স্বতন্ত্র। এই স্বাতন্ত্র্যই তাদের এক অনন্য আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে, যার ফলে তারা মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান বার্তা পৌঁছে দেওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবে। প্রখ্যাত সাহাবী ইবনুল হানযালিইয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে যে, নবী (সা.) তাঁর সঙ্গীদের সাথে এক সফরে ছিলেন এবং তাঁরা তাঁদের অন্য ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলেন; তখন তিনি তাঁদের বললেন—
“তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছ। সুতরাং তোমরা তোমাদের সওয়ারিগুলো ঠিক করে নাও এবং তোমাদের পোশাক-আশাক পরিপাটি করো; যেন মানুষের মাঝে তোমাদের দেখে একটি (উজ্জ্বল) চিহ্নের মতো মনে হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো কদর্যতা বা অশ্লীলতা পছন্দ করেন না।” [সুনান আবূ দাউদ ও আল-মুস্তাদরাক; হাসান সূত্রে বর্ণিত]
এখানে ‘সওয়ারি ঠিক করা’ বলতে বাহনের সাজসজ্জা ও মালপত্রের সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘কদর্যতা ও অশ্লীলতা’ বলতে এমন সবকিছুকে বোঝানো হয়েছে যা দৃষ্টিকটু ও রুচিহীন। রাসূলুল্লাহ (সা.) অগোছালো চেহারা, জরাজীর্ণ অবস্থা, নিজের বাহ্যিক অবয়বের প্রতি চরম উদাসীনতা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ কিংবা আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে অপরিচ্ছন্ন থাকাকে এক প্রকার কদর্যতা হিসেবে গণ্য করেছেন—যা এই মহান দ্বীন অপছন্দ করে এবং এ থেকে নিষেধ করে।
একজন প্রকৃত মুসলিম এই জীবনের সুউচ্চ ও মহান দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকলেও নিজের যত্ন নিতে ভুল করেন না। তিনি কখনো নিজেকে অবহেলা করেন না। কারণ তাঁর চিন্তাধারায় মানুষের বাহ্যিক রূপ আর অভ্যন্তরীণ গুণাবলি একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। তাঁর বিশ্বাস—মানুষের মার্জিত ও সুন্দর অবয়ব তার ভেতরের গাম্ভীর্য এবং উন্নত স্বভাবের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ এই

« <
/ 87
> »