বরকতময় ও জ্যোতির্ময় সুরের মূর্ছনায় ভরিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যে মুমিন কুরআন পাঠ করে, তার উদাহরণ হলো ‘উতরুজজাহ’ (কমলালেবু সদৃশ সুগন্ধি ফল)-এর মতো; যার ঘ্রাণও চমৎকার এবং স্বাদও সুস্বাদু। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না, তার উদাহরণ হলো ‘খেজুর’-এর মতো; যার কোনো ঘ্রাণ নেই কিন্তু স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে, তার উদাহরণ হলো ‘রাইহানা’ (সুগন্ধি লতা)-এর মতো; যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না, তার উদাহরণ হলো ‘হানযালা’ (মাকাল ফল)-এর মতো; যার কোনো ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও অত্যন্ত তিক্ত।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন—
“তোমরা কুরআন পাঠ করো; কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।” [সহীহ মুসলিম]
তিনি আরও বলেন—
“যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ সে (কিয়ামতের দিন) সম্মানিত নেককার লিপিকার ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়ার সময় আটকে যায় এবং তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
এখন এই সুসংবাদের পর কোনো সত্যনিষ্ঠ মুসলিম কি কুরআন তিলাওয়াত ও এর মর্ম অনুধাবনে অবহেলা করতে পারে?!
পরিশেষে বলা যায়—একজন প্রকৃত মুসলিমের সাথে তাঁর রবের সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো সত্য ও গভীর ঈমান, নিরন্তর নেক আমল এবং রবের সন্তুষ্টি লাভের জন্য ব্যাকুলতা। এর মাধ্যমেই তিনি আল্লাহর প্রতি নিজের দাসত্বকে সাব্যস্ত করেন এবং এই পৃথিবীতে তাঁর অস্তিত্বের সেই মহান লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেন, যা আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং নির্ধারণ করে দিয়েছেন:
﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ﴾ “আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [সূরাহ আয-যারিয়াত: ৫৬]
মুসলিম ও তার আপন সত্তা
