আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

যেন এক আন্তর্জাতিক ও বিশ্বজনীন মহামিলন মেলা, যা হজ্জের মৌসুম ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। সেখানে বর্ণ, বংশ ও ভাষার ভিন্নতা ভুলে সকল হাজি এক মহিয়ান রবের দরবারে তালবিয়াহ, তাহলীল, তাকবীর, তাসবীহ ও হামদ পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠেন।
আল্লাহর দাসত্বের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন
একজন মুসলিম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই পৃথিবীতে তাঁর অস্তিত্বের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো তাঁর রবের ইবাদত করা:
﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ﴾ “আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [সূরাহ আয-যারিয়াত: ৫৬]
আল্লাহর এই ইবাদত কেবল তসবীহ পাঠেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পৃথিবী আবাদ করার প্রতিটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক কাজ, জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তব জীবনে তাঁর নির্দেশিত জীবনপদ্ধতি প্রয়োগ করার নামই ইবাদত। মুসলিমের বিবেক ও চেতনায় যখন এই অনুভূতি জাগ্রত থাকে যে—সে এক প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহর দাস এবং তাঁর প্রতিটি কাজের লক্ষ্য হয় কেবল রবের সন্তুষ্টি, তখন তাঁর প্রতিটি সাধারণ কাজও ইবাদতে রূপান্তরিত হয়; ঠিক যেমনটি হয় ফরয ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে। শর্ত হলো—তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া ও কর্মতৎপরতায় এই নিয়ত থাকতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথেই করছেন।
একজন প্রকৃত মুসলিমের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হলো জমিনে আল্লাহর শরীয়তকে বিজয়ী করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো এবং তাঁর দেওয়া জীবনবিধানকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করা; যাতে ব্যক্তির জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়।
নিষ্ঠাবান মুসলিম মনে করেন যে, তাঁর ইবাদত ততক্ষণ পর্যন্ত অপূর্ণ থেকে যাবে, যতক্ষণ না তিনি সেই মহান লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হবেন যার জন্য জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে—আর তা হলো জমিনে আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করা। এর মাধ্যমেই কেবল মানুষের নিরঙ্কুশ দাসত্ব

« <
/ 87
> »