আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
কিছু বর্ণনায় এই তিন দিনকে নির্দিষ্ট করে চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ বলা হয়েছে, যাদের ‘আইয়ামুল বীয’ বা শ্বেত দিবস বলা হয়। আবার কোনো কোনো বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট তারিখ ছাড়াও মাসের যেকোনো তিন দিন রোজা রাখতেন। মু‘আযাহ আল-আদাবিয়্যাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশাহ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন—রাসূলুল্লাহ (সা.) কি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন? তিনি বললেন—‘হ্যাঁ’। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম—মাসের কোন অংশে তিনি রোজা রাখতেন? আয়িশাহ (রা.) বললেন—‘মাসের কোন অংশে রোজা রাখছেন, সে ব্যাপারে তিনি বিশেষ পরোয়া করতেন না’ (অর্থাৎ যেকোনো দিনই রাখতেন)।” [সহীহ মুসলিম]
নিজের দ্বীনের হেদায়েত সম্পর্কে সচেতন একজন মুসলিম সামর্থ্য হওয়ামাত্র আল্লাহর ঘরের হজ্জ আদায়ের সংকল্প করেন। পবিত্র মক্কা অভিমুখে যাত্রার আগেই তিনি হজ্জের মাসআলা-মাসায়েল ও নিয়মকানুনগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন; যাতে প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় তাঁর নখদর্পণে থাকে। এভাবে যখন তিনি হজ্জের মানাসিকগুলো পালন করেন, তখন তাঁর হজ্জ হয় ত্রুটিমুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ। তিনি এই মহান ফরযের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা ও তাৎপর্যগুলো অনুধাবন করতে পারেন। ঈমানের এক প্রশান্ত আবহ তাঁর হৃদয়ে মিশে যায় এবং ইসলামের উজ্জ্বল সৌন্দর্য তাঁর পুরো সত্তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এই ‘হজ্জে মাবরূর’ বা কবুল হজ্জ শেষে তিনি যখন নিজ দেশ ও পরিবারে ফিরে আসেন, তখন তিনি তাঁর পাপসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন হয়ে ফেরেন, যেন আজই তাঁর জননী তাঁকে জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অন্তর এই মহিমান্বিত দ্বীনের প্রতি এক গভীর বিশ্বাসে পূর্ণ হয়ে যায়, যা পৃথিবীর সমস্ত জাতির মানুষকে বায়তুল্লাহর চারদিকে একত্রিত করেছে। হজ্জ
