আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয় [সূরাহ আয-যারিয়াত: ৫৬] এবং বাস্তব জীবনে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’-এর প্রকৃত অর্থ ফুটে ওঠে।
ইবাদতের এই সচেতন ও সঠিক উপলব্ধির কারণে একজন মুসলিম জীবনের কোনো না কোনো মহৎ লক্ষ্য বা মিশনের অধিকারী হন। আর সেই মিশনটি হলো—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কেবল আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য বুকে ধারণ করা ছাড়া তাঁর ইসলাম পূর্ণতা পায় না এবং জীবন বাস্তবতায় তা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস ও একনিষ্ঠ পরিশ্রম করা ছাড়া তাঁর ইবাদত সার্থক হয় না। মূলত এই আদর্শিক লক্ষ্যই একজন মুসলিমকে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার প্রকৃত পরিচয় দান করে। এটিই তাঁকে সেইসব মুজাহিদ ও সত্যনিষ্ঠ মুসলিমদের দলভুক্ত করে, যাঁদের দৃষ্টিতে পার্থিব জীবনের একটি অর্থ আছে—যা পৃথিবীতে মানুষের ‘খলিফা’ বা প্রতিনিধির মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ। এর মাধ্যমেই তিনি পৃথিবীতে তাঁর আগমনের কারণ এবং অন্যান্য সৃষ্টির ওপর আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠত্বের সার্থকতা খুঁজে পান:
﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا﴾ “নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।” [সূরাহ আল-ইসরা: ৭০]
সুতরাং একজন খাঁটি মুসলিম যে বসন্তের আহ্বানের মতো এই মহান মিশনের দিকে পরম আগ্রহে এগিয়ে আসবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তিনি এই লক্ষ্যের তরে নিজের সমস্ত কল্যাণ বিলিয়ে দেন, নিজের মেধা ও সম্পদের আধার উজাড় করে দেন এবং এর বিজয়ের জন্য নিজের সময়, শ্রম ও অর্থ উৎসর্গ করেন। কারণ এটিই তাঁর জীবনের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, তাঁর অস্তিত্বের সুমহান সার্থকতা এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের পাথেয়। এই লক্ষ্য ছাড়া তাঁর জীবনের কোনো স্বাদ

« <
/ 87
> »