আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

আয়িশাহ (রা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন—‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন এমনটি করছেন? অথচ আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সমস্ত ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন!’ তিনি উত্তর দিতেন—

“আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]

একজন প্রকৃত মুসলিম তাঁর প্রতিটি সালাত অত্যন্ত সুচারুভাবে, সমস্ত শর্ত ও আরকান মেনে আদায় করার ব্যাপারে সজাগ থাকেন। এটি কেবল কতগুলো যান্ত্রিক উঠবস কিংবা শারীরিক অঙ্গভঙ্গি নয়—যেখানে মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও, চিন্তা থাকে বিক্ষিপ্ত আর হৃদয় থাকে শূন্য।

সালাত শেষ করেই তিনি তৎক্ষণাৎ দুনিয়াবি ব্যস্ততা কিংবা জীবনের উত্তাল স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন না; বরং সালাতের পর তিনি সুন্নাহ সমর্থিত সেইসব ইস্তিগফার, জিকির ও তাসবীহ পাঠ করেন যা হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। এরপর তিনি সুউচ্চ ও সুমহান রবের দরবারে অন্তরের অন্তস্থল থেকে বিনীতভাবে দু‘আ করেন—যেন আল্লাহ তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করেন এবং তাঁর প্রতিটি কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। এভাবেই সালাত মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে, হৃদয়কে কোমল করতে এবং নফসকে পবিত্র করতে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলতেন—

“সালাতের মধ্যেই আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।” [মুসনাদু আহমাদ ও সুনানুন নাসাঈ; হাসান সূত্রে বর্ণিত]

এ কারণেই যারা প্রকৃত ও নিষ্ঠাবান মুসাল্লী এবং সালাতে বিনয়ী, তারা আল্লাহর নিরাপদ আশ্রয়ে ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণে থাকেন। কোনো বিপদ তাদের স্পর্শ করলে তারা হাহাকার করেন না, আবার প্রাচুর্য লাভ করলে তারা কৃপণতা করেন না:

﴿إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا * إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا * وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا * إِلَّا الْمُصَلِّينَ﴾
“নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থিরমনা হিসেবে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, সে হা-হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণ (সম্পদ) তাকে স্পর্শ করে, তখন সে কৃপণ হয়ে

« <
/ 87
> »