আদর্শ মুসলিম

« <
/ 87
> »

যায়; কেবল সেই সালাত আদায়কারীরা ব্যতীত (যারা তাদের সালাতে নিষ্ঠাবান)।” [সূরাহ আল-মা‘আরিজ: ১৯-২২]

অনুরূপভাবে, একজন মুসলিম যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তিনি যাকাত প্রদান করেন। এই ফরযটি পালনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে, আমানতদারিতা ও তাকওয়ার সাথে তাঁর ওপর অর্পিত পাওনা হিসেব করেন এবং শরীয়ত নির্ধারিত খাতসমূহে তা ব্যয় করেন। তাঁর যাকাতের পরিমাণ হাজার হাজার কিংবা লক্ষ-কোটি টাকা হলেও তিনি তা আদায়ে কুণ্ঠাবোধ করেন না এবং পাওনা ফাঁকি দেওয়ার কথা তাঁর কল্পনাতেও আসে না।

কেননা যাকাত হলো একটি আর্থিক ও ইবাদতগত ফরয, যা যথাযথভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় না করার কোনো সুযোগ একজন সত্যনিষ্ঠ মুসলিমের নেই। যে মুসলিম যাকাত আদায়ে গড়িমসি করে, বুঝতে হবে তার দ্বীনদারিতে অস্বচ্ছতা, মনে সংকীর্ণতা এবং চরিত্রে কুটিলতা রয়েছে। আমাদের মনে রাখা উচিত, যে ব্যক্তি যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তার রক্তপাত করা বৈধ—যতক্ষণ না সে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যাকাত পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে। যাকাত অস্বীকারকারী মুরতাদদের সম্পর্কে আবূ বকর আস-সিদ্দীক (রা.)-এর সেই বজ্রকঠিন ঘোষণা আজও ইতিহাসের পাতায় প্রতিধ্বনিত হয়, যা দ্বীন ও দুনিয়ার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের এক অনন্য স্মারক: “আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” সিদ্দীকে আকবর (রা.)-এর এই শপথ থেকেই ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং এর সৌধ নির্মাণে সালাত ও যাকাতের মধ্যকার সুগভীর সম্পর্কের বোধটি ফুটে ওঠে। পবিত্র কুরআনের পাতায় পাতায় আমরা দেখি, আল্লাহ তা‘আলা সালাত ও যাকাতকে কীভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে উল্লেখ করেছেন:

﴿الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ﴾
“যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে।” [সূরাহ আল-মায়িদাহ: ৫৫] ﴿وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ﴾
“আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত দাও।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৪৩]

« <
/ 87
> »