ব্যক্তির মতো ঘরে সালাত আদায় করো, তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাহকে পরিত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা নবীর সুন্নাহ ত্যাগ করো, তবে নিশ্চিতভাবেই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। আমরা দেখেছি—সুস্পষ্ট মুনাফিক ছাড়া আর কেউ জামাআত থেকে পেছনে থাকত না। এমনকি (অসুস্থতার কারণে) কোনো কোনো মানুষকে দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে নিয়ে আসা হতো এবং কাতারবন্দি করে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।” [সহীহ মুসলিম]
মসজিদে জামাআতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বারোপের বিষয়টি এতটাই জোরালো ছিল যে, তিনি কোনো ওজর ছাড়াই জামাআত ত্যাগকারীদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেছিলেন। তিনি বলেন—
“সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমার ইচ্ছে হয় আমি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দিই, এরপর সালাতের আজান দেওয়ার নির্দেশ দিই, তারপর কোনো একজনকে ইমামতি করতে বলে আমি নিজে সেইসব লোকদের কাছে যাই যারা জামাআতে উপস্থিত হয়নি এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিই।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই কড়া হুঁশিয়ারির পর মুসলিম ইতিহাসে সা‘ঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.)-এর মতো মানুষদের দেখা পাওয়া মোটেও আশ্চর্যজনক নয়; যিনি টানা ত্রিশ বছর মসজিদে কারো পিঠ দেখেননি। কারণ আজানের আগেই তিনি সবসময় প্রথম কাতারে উপস্থিত থাকতেন। মুসলিম ইতিহাসে এমন অগণিত ‘সা‘ঈদ’ অতিবাহিত হয়েছেন।
এমনকি বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্বও সাহাবীয়ে কিরামকে জামাআতে উপস্থিতি থেকে বিরত রাখতে পারত না। তাঁদের অন্তরে জামাআতের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বরং তাঁরা মসজিদের চেয়ে বাড়ি দূরে হওয়াটাকেই বেশি পছন্দ করতেন; যাতে মসজিদে আসা-যাওয়ার প্রতিটি কদম তাঁদের আমলনামায় পুণ্য হিসেবে যুক্ত হয়।
উবাই ইবনে কা‘ব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
“আনসারদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যাঁর চেয়ে বেশি দূরে আর কারো বাড়ি ছিল বলে আমার জানা নেই। অথচ তিনি কখনো কোনো সালাত জামাআত ছাড়া আদায়
