অবহেলা বা বিচ্যুতির কারণে একজন খাঁটি মুমিন অন্তরে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। তিনি উদাসীন হয়ে বসে থাকতে পারেন না। এর প্রতিকারে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেন, ফলাফল যাই হোক না কেন। এই দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করে যারা নীরব থাকে, বুঝতে হবে তাদের ঈমান দুর্বল, দ্বীনদারি ঠুনকো এবং তাদের ব্যক্তিত্ব ও পৌরুষে ঘাটতি রয়েছে।
আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট
একজন সত্যনিষ্ঠ মুসলিম সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই হাদীসটি সবসময় নিজের চোখের সামনে রাখেন:
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনের বিষয়টি কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর; আর মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য এমনটি হয় না। যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করে তবে শোকর করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয় তবে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৯৯৯]
এর কারণ হলো, একজন প্রকৃত মুসলিম অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বিশ্বাস করেন যে, ক্বাযা ও ক্বদরের (তাকদীরের) ওপর বিশ্বাস রাখা ঈমানের অন্যতম রুকন। এই জীবনে তার ওপর যা কিছু আপতিত হয়, তা তাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না; কারণ তা সুনির্ধারিত তাকদীরেরই লিখন, যা প্রতিহত করার ক্ষমতা তার নেই। আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি তার এই সন্তুষ্টি তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে মহা পুরস্কার এনে দেয় এবং তাঁর দরবারে অনুগত ও সফল মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করে।
এভাবেই মুমিনের পুরো বিষয়টি কল্যাণে ভরে ওঠে। যদি সে সুখের দেখা পায়, তবে তার জিহ্বা পরম দয়ালু
