দ্বীন অনুসরণ করছি; আমাদের জন্য শোভনীয় নয় যে আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করি।” [সূরাহ ইউসুফ: ৩৮]
দুই কয়েদীর স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান
দাওয়াত শেষ করার পর তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসিত স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُمَا فَيَسْقِي رَبَّهُ خَمْرًا ۖ وَأَمَّا الْآخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِن رَّأْسِهِ ۚ قُضِيَ الْأَمْرُ الَّذِي فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ
“হে আমার কারাগারের দুই সাথী! তোমাদের একজনের (ব্যাখ্যা) হলো সে তাঁর মুনিবকে মদ পান করাবে; আর অন্যজনকে শূলে চড়ানো হবে এবং পাখি তাঁর মাথা থেকে (মগজ) ছিঁড়ে খাবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছিলে তাঁর ফয়সালা হয়ে গেছে।” [সূরাহ ইউসুফ: ৪১]
দাওয়াতের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদীস
ইউসুফ (সা.) কারাগারে যে দাওয়াতের কাজ করেছেন, তা যে কত বড় সওয়াবের কাজ, তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে প্রকাশ পেয়েছে—
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ»
“সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ (সা.) আলী (রা.)-কে বলেছিলেন: ‘আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য একপাল লাল উটের চেয়েও উত্তম’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৩৭০১; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৪০৬]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
দায়ীর কোনো অবসর নেই: মুমিন যেখানেই থাকুক—বিপদে কিংবা সুখে, রাজপ্রাসাদে কিংবা কারাগারে—সর্বাবস্থায় আল্লাহর দ্বীন প্রচার করাই তাঁর লক্ষ্য হওয়া উচিত।
হিকমাহ বা কৌশল: আগে মানুষের বিশ্বাস (তাওহীদ) ঠিক করতে হয়, তারপর অন্যান্য মাসআলা বা সমস্যার সমাধান দিতে হয়।
সত্যের জয়: ইউসুফ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে হুবহু সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।
শিরকের ভয়াবহতা: বহু ইলাহ বা মূর্তির ইবাদত যে মানুষের বিবেকবিরোধী, তা ইউসুফ (সা.) অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে বুঝিয়েছিলেন।
আচরণই দাওয়াতের চাবিকাঠি: ইউসুফ (সা.)-এর সুন্দর চরিত্র দেখেই কয়েদীরা তাঁকে ‘মুহসিন’ (সৎকর্মশীল) বলেছিল এবং তাঁর কাছে দ্বীন শিখতে আগ্রহী হয়েছিল।
অধ্যায়- ৯: বাদশাহর স্বপ্ন ও ইউসুফ (সা.) এর ব্যাখ্যা প্রদান
ইউসুফ (সা.) যখন কারাগারে বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত করলেন, তখন মিশরের বাদশাহ একটি রহস্যময় স্বপ্ন দেখলেন। তিনি দেখলেন সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভীকে সাতটি জীর্ণশীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলছে
