এবং সাতটি সবুজ শীষ ও সাতটি শুষ্ক শীষ। বাদশাহর সভার বিজ্ঞ ব্যক্তিরা একে ‘বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন’ বলে এড়িয়ে গেলেও কারাগারের সেই মুক্তিপ্রাপ্ত সঙ্গী ইউসুফ (সা.)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিল। ইউসুফ (সা.) কেবল স্বপ্নের ব্যাখ্যাই দিলেন না, বরং আগত দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচার জন্য এক নিখুঁত অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও বাতলে দিলেন।
বাদশাহর বিস্ময়কর স্বপ্ন
বাদশাহর এই স্বপ্নটি ছিল মিশরের আসন্ন এক মহাবিপদ ও তা থেকে উদ্ধারের আগাম সংকেত।
وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَىٰ سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ ۖ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِن كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ
“আর বাদশাহ বলল—‘আমি স্বপ্নে দেখেছি সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী, যাদেরকে সাতটি লিনজিনে (শীর্ণ) গাভী খেয়ে ফেলছে; এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে প্রধানগণ! যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারো, তবে আমার এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দাও’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৪৩]
ইউসুফ (সা.)-এর কথা স্মরণ ও তাঁর কাছে গমন
বাদশাহর সেই পরিচারক, যে ইউসুফ (সা.)-এর সাথে কারাগারে ছিল, দীর্ঘকাল পর ইউসুফের কথা মনে করে কারাগারে তাঁর কাছে গেল।
يُوسُفُ أَيُّهَا الصِّدِّيقُ أَفْتِنَا فِي سَبْعِ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعِ سُنبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ
“সে বলল—‘হে ইউসুফ! হে পরম সত্যবাদী! আপনি আমাদের ব্যাখ্যা দিন সাতটি হৃষ্টপুষ্ট গাভী সম্পর্কে যাদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে ফেলছে; এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৪৬]
ইউসুফ (সা.) কর্তৃক স্বপ্নের বাস্তব ব্যাখ্যা ও পরিকল্পনা
ইউসুফ (সা.) কোনো স্বার্থ ছাড়াই সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা এবং দুর্ভিক্ষের মোকাবিলা করার উপায় বাতলে দিলেন।
قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبًا فَمَا حَصَدتُّمْ فَذَرُوهُ فِي سُنبُلِهِ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّا تَأْكُلُونَ। ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّا تُحْصِنُونَ
“ইউসুফ বলল—‘তোমরা সাত বছর একনাগাড়ে চাষাবাদ করবে; অতঃপর তোমরা যে ফসল কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য অংশ তোমরা খাবে তা ছাড়া বাকিটুকু শীষসহ রেখে দেবে। এরপর আসবে সাতটি কঠিন (দুর্ভিক্ষের) বছর; যা তোমরা আগে যা জমা করে রেখেছিলে তা খেয়ে ফেলবে, কেবল সামান্য কিছু ছাড়া যা তোমরা সংরক্ষণ করবে’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৪৭-৪৮]
নবী (সা.)-এর দৃষ্টিতে ইউসুফ (সা.)-এর ধৈর্য
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইউসুফ (সা.)-এর ধৈর্যের প্রশংসা করে
