আখেরাতে বিজয় মুমিনদেরই।
কারাগারও রহমত হতে পারে: ইউসুফ (সা.)-এর জন্য কারাগার ছিল মূলত একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে তিনি সরাসরি পাপাচার থেকে হিফাজতে ছিলেন এবং নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী
ইউসুফ (সা.)
অধ্যায়- ৮: জেলখানায় দাওয়াতী কাজ
জেলখানা সাধারণত অপরাধীদের জায়গা হলেও ইউসুফ (সা.)-এর জন্য তা ছিল এক তাবলীগী মারকায। কারাগারে তাঁর সাথে আরও দুজন যুবক ছিল। তাঁরা যখন তাঁদের বিস্ময়কর স্বপ্নের কথা ইউসুফ (সা.)-কে জানাল এবং তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাইল, তখন ইউসুফ (সা.) সেই সুযোগটি কাজে লাগালেন। তিনি সরাসরি স্বপ্নের ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রথমে নিজের পরিচয় দিলেন এবং তাঁদেরকে মূর্তিপূজা ও বহু ইলাহের অসারতা বুঝিয়ে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানালেন। একজন দায়ীর জন্য জেলখানা যে দাওয়াতের বড় ক্ষেত্র হতে পারে, ইউসুফ (সা.) তাঁর জীবন্ত প্রমাণ।
স্বপ্নের ব্যাখ্যার আগে তাওহীদের দাওয়াত
ইউসুফ (সা.) জানতেন যে, আত্মার চিকিৎসার (তাওহীদ) গুরুত্ব জাগতিক সমস্যার (স্বপ্নের ব্যাখ্যা) চেয়ে অনেক বেশি। তাই তিনি কৌশলে দাওয়াত শুরু করেন।
يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ
“হে আমার কারাগারের দুই সাথী! ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো রব (উপাস্য) ভালো, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ?” [সূরাহ ইউসুফ: ৩৯]
মূর্তিপূজার অসারতা ও আল্লাহর সার্বভৌমত্ব
তিনি তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন যে, তারা যেসব দেব-দেবীর পূজা করে সেগুলো নিছক কিছু অর্থহীন নাম ছাড়া আর কিছুই নয়।
مَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ
“তোমরা তাঁকে ছেড়ে কেবল কতগুলো নামের ইবাদত করছো, যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছো; যেগুলোর পক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। বিধান দেওয়ার অধিকার তো কেবল আল্লাহরই; তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না। এটাই হলো সঠিক দ্বীন।” [সূরাহ ইউসুফ: ৪০]
নিজের পূর্বপুরুষ ও নবুওয়াতের পরিচয়
দাওয়াত দেওয়ার সময় তিনি তাঁর মহান বংশধারা এবং শিরকমুক্ত জীবনের কথা উল্লেখ করেন যেন মানুষ আস্থাশীল হয়।
وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ ۚ مَا كَانَ لَنَا أَن نُّشْرِكَ بِاللَّهِ مِن شَيْءٍ
“আর আমি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াক্বূবের
