আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় বান্দার আর্তনাদ শুনলেন এবং তাঁকে পাপাচার থেকে বাঁচাতে কারাগারের শান্তিতে পৌঁছে দিলেন।
فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন এবং তাঁদের চক্রান্ত তাঁর থেকে দূর করে দিলেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” [সূরাহ ইউসুফ: ৩৪]
নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও কারাদণ্ড
মিশরের নেতৃবর্গ ইউসুফ (সা.)-এর পবিত্রতার সব প্রমাণ দেখার পরও জনগণের কানাঘুষা বন্ধ করতে সাময়িকভাবে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল।
ثُمَّ بَدَا لَهُم مِّن بَعْدِ مَا رَأَوُا الْآيَاتِ لَيَسْجُنُنَّهُ حَتَّىٰ حِينٍ
“অতঃপর সব নিদর্শন দেখার পর তাঁদের কাছে এটাই সমীচীন মনে হলো যে, তাঁকে একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবশ্যই কারারুদ্ধ করে রাখতে হবে।” [সূরাহ ইউসুফ: ৩৫]
কারাগারেও নেক আমল ও দাওয়াত
ইউসুফ (সা.) কারাগারে গিয়ে ভেঙে পড়েননি, বরং সেখানেও তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে সবার মন জয় করে নিলেন।
وَدَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَيَانِ… نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِ ۖ إِنَّا نَرَاكَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ
“আর তাঁর সাথে দুই যুবক কারাগারে প্রবেশ করল… (তাঁরা বলল) ‘আপনি আমাদের এগুলোর ব্যাখ্যা বলে দিন; নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে একজন মুহসিন (সৎকর্মশীল) হিসেবে দেখছি’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৩৬]
ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় সম্পর্কে হাদীস
ইউসুফ (সা.) যেভাবে মহিলাদের ফিতনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় চেয়েছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-ও তাঁর উম্মতকে ফিতনা থেকে বাঁচার শিক্ষা দিয়েছেন।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «…فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ، فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ»
“আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত—নবী (সা.) বলেছেন: ‘…তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো এবং নারীদের (ফিতনা) থেকে বেঁচে থাকো; কেননা বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীদের নিয়ে’।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭৪২]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
ঈমানী দৃঢ়তা: রাজকীয় বিলাসিতা ও পাপের চেয়ে মুমিনের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কারাগারের কষ্ট অনেক বেশি কাম্য।
দোয়ার গুরুত্ব: নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় আল্লাহর সাহায্য চাওয়া জরুরি, কারণ মানুষের অন্তর অত্যন্ত দুর্বল।
মুহসিন বা সৎকর্মশীলের বৈশিষ্ট্য: একজন প্রকৃত মুমিন কারাগারে থাকলেও তাঁর আচরণ ও কাজ দেখে মানুষ তাঁকে ‘মুহসিন’ হিসেবে চিনতে পারে।
ষড়যন্ত্রের শিকার: পৃথিবীতে অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তিকেও প্রভাবশালী যালিমদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়, কিন্তু
