বলল—‘সে-ই আমাকে ফুসলিয়েছে’। আর সেই মহিলার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল—‘যদি ইউসুফের জামা সামনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তবে মহিলা সত্য বলেছে আর সে (ইউসুফ) মিথ্যাবাদী। আর যদি জামা পিছন দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তবে মহিলা মিথ্যা বলেছে আর সে (ইউসুফ) সত্যবাদী’।” [সূরাহ ইউসুফ: ২৬-২৭]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
তাক্বওয়ার শক্তি: একজন মুমিনকে যখন একাকী কোনো পাপে প্রলুব্ধ করা হয়, তখন কেবল আল্লাহর ভয়ই তাঁকে রক্ষা করতে পারে।
কৃতজ্ঞতাবোধ: ইউসুফ (সা.) তাঁর আশ্রয়দাতার (আযীযের) প্রতি আমানতদার ছিলেন। বিশ্বাসঘাতকতা করা নবিদের কাজ নয়।
পাপের পরিবেশ ত্যাগ করা: ইউসুফ (সা.) সেখানে দাঁড়িয়ে না থেকে দরজার দিকে দৌড়েছিলেন। এটি শিক্ষা দেয় যে পাপাচারের পরিবেশ থেকে দ্রুত পলায়ন করা ঈমানের দাবি।
আল্লাহর হিফাজত: আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে পবিত্র রাখতে চান, তখন তিনি সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে সত্যকে প্রকাশিত করেন।
নারীর ষড়যন্ত্র: আযীয যখন দেখলেন জামা পিছন থেকে ছেঁড়া, তখন তিনি বলেছিলেন—‘নিশ্চয়ই এটি তোমাদের (নারীদের) কৌশল; তোমাদের কৌশল তো অতি ভয়াবহ’।
অধ্যায়- ৭: ইউসুফ (সা.) কে জেলখানায় প্রেরণ
ইউসুফ (সা.)-এর পবিত্রতার প্রমাণ পাওয়ার পরও যুলাইখা ও মিশরের সম্ভ্রান্ত মহিলারা তাঁদের জেদ বজায় রাখলেন। যুলাইখা প্রকাশ্য মজলিসে স্বীকার করলেন যে তিনি ইউসুফকে প্রলুব্ধ করেছিলেন, কিন্তু ইউসুফ বিরত ছিলেন। তিনি হুমকি দিলেন যে, যদি ইউসুফ তাঁর কথা না শোনেন তবে তাঁকে অবশ্যই কারাবরণ করতে হবে। ইউসুফ (সা.) পাপাচারের রাজকীয় প্রাসাদে থাকার চেয়ে আল্লাহর ইবাদতের জন্য অন্ধকার কারাগারকে উত্তম মনে করলেন। পরিশেষে মিশরের শাসকরা নিজেদের মান-সম্মান রক্ষার্থে ইউসুফকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। এভাবেই আল্লাহর নবীর জীবনের এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো।
পাপের চেয়ে কারাগারকে অগ্রাধিকার দান
যুলাইখা ও অন্যান্য মহিলাদের প্রলোভন যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন ইউসুফ (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন।
قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ
“ইউসুফ বলল—‘হে আমার প্রতিপালক! এরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে, তার চেয়ে কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়; আর আপনি যদি এদের চক্রান্ত আমার থেকে দূর না করেন, তবে আমি তাঁদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৩৩]
মজলুম নবীর দোয়া কবুল
