আল্লাহ যাকে ‘মর্জী’ বা সন্তোষভাজন বলেন, তাঁর চেয়ে বড় কামিয়াবী আর কারো হতে পারে না।
ইসহাক (আঃ)
অধ্যায়- ১: ইসহাক (সা.) এর পরিচয় ও জন্মবার্তা
হযরত ইসহাক (সা.) ছিলেন হযরত ইবরাহীম (সা.) ও তাঁর প্রথমা স্ত্রী বিবি সারাহ’র গর্ভজাত সন্তান। তাঁর জন্ম ছিল এক অলৌকিক ঘটনা, কারণ ইবরাহীম (সা.) এবং সারাহ উভয়েই তখন বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁদেরকে এই সন্তানের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। ইসহাক (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদা হলো, আল্লাহ তাঁকে ‘আলিম’ (মহাজ্ঞানী) এবং ‘মুবারাক’ (বরকতময়) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁরই পুত্র ইয়াক্বূব (সা.)-এর বংশধারা থেকেই পরবর্তীতে ইউসুফ, মূসা, দাঊদ, সুলায়মান এবং ঈসা (সা.)-এর মতো মহান নবিগণের আগমন ঘটে।
ফেরেশতাদের মাধ্যমে জন্মের সুসংবাদ
ফেরেশতারা যখন লূত (সা.)-এর কওমকে ধ্বংস করতে যাচ্ছিলেন, তখন পথে ইবরাহীম (সা.)-এর মেহমান হয়ে তাঁকে ইসহাক (সা.)-এর জন্মের খবর দেন।
وَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَاقَ نَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ
“আর আমি তাঁকে (ইবরাহীমকে) ইসহাকের সুসংবাদ দান করলাম, যে ছিল একজন নবী এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরাহ আস-সাফফাত: ১১২]
বিবি সারাহ’র বিস্ময় ও আল্লাহর কুদরত
বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভের খবর শুনে বিবি সারাহ বিস্মিত হয়েছিলেন, কিন্তু ফেরেশতারা তাঁকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِن وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ। قَالَتْ يَا وَيْلَتَىٰ أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهَٰذَا بَعْلِي شَيْخًا ۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيْءٌ عَجِيبٌ
“আর তাঁর (ইবরাহীমের) স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল, সে হেসে ফেলল; তখন আমি তাঁকে ইসহাকের এবং ইসহাকের পরবর্তী ইয়াক্বূবের সুসংবাদ দিলাম। সে বলল—‘হায় দুর্ভোগ! আমি কি সন্তান প্রসব করব অথচ আমি এক বৃদ্ধা আর আমার এই স্বামীও অতি বৃদ্ধ? নিশ্চয়ই এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার’!” [সূরাহ হূদ: ৭১-৭২]
বিশেষ গুণ: মহাজ্ঞানী ও বরকতময়
আল্লাহ তা‘আলা ইসহাক (সা.)-কে ‘আলিম’ বা বিশেষ ইলমপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۖ قَالُوا لَا تَخَفْ ۖ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ
“এতে তাঁর (ইবরাহীমের) মনে তাঁদের সম্পর্কে ভীতির সৃষ্টি হলো। তাঁরা বলল—‘ভয় পাবেন না’; এবং তাঁরা তাঁকে এক মহাজ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।” [সূরাহ আয-যারিয়াত: ২৮]
বংশীয় মর্যাদা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীস
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইসহাক (সা.) ও তাঁর বংশধরের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁদেরকে ‘কারীম’ (সম্মানিত) বলে অভিহিত করেছেন।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ
