আল-আন‘আম: ৮৬]
ধৈর্যশীলদের তালিকায় বিশেষ স্থান
বিপদে অটল থাকা এবং আল্লাহর হুকুম পালনে দৃঢ়সংকল্প হওয়ার কারণে আল্লাহ তাঁকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেছেন।
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ ۖ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ
“আর ইসমা‘ঈল, ইদরীস ও যুল-কিফলের কথা স্মরণ করো; তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল।” [সূরাহ আল-আম্বিয়া: ৮৫]
আল্লাহর সন্তোষভাজন ও ওহীপ্রাপ্ত নবী
ইবরাহীম (সা.)-এর মতো তাঁর ওপরও আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র ওহী নাযিল হতো।
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَىٰ نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِن بَعْدِهِ ۚ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ…
“নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে ওহী পাঠিয়েছি যেমন পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবিদের কাছে; আর আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইবরাহীম, ইসমা‘ঈল, ইসহাক, ইয়াক্বূব… (এর কাছে)।” [সূরাহ আন-নিসা: ১৬৩]
আরবী ভাষা ও তীরন্দাজিতে শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হাদীস
হযরত ইসমা‘ঈল (সা.)-এর শারীরিক ও ভাষাগত নৈপুণ্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى نَفَرٍ مِنْ أَسْلَمَ يَنْتَضِلُونَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ، فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيًا…»
“সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রা.) থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন: নবী (সা.) আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। তখন তিনি বললেন—‘হে বনী ইসমা‘ঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো; কেননা তোমাদের পিতা (ইসমা‘ঈল) ছিলেন একজন দক্ষ তীরন্দাজ’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ২৮৯৯]
কুরবানীর সম্মান ও যাবিহুল্লাহ উপাধি
আলেমদের মতে, ‘যাবিহুল্লাহ’ বা আল্লাহর রাহে কুরবানী হওয়ার জন্য যাকে নির্বাচন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন ইসমা‘ঈল (সা.)। এটি তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা।
وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
“আর আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে তাঁকে মুক্ত করলাম।” [সূরাহ আস-সাফফাত: ১০৭]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
ধৈর্যের ফল মিষ্ট: ইসমা‘ঈল (সা.)-এর শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত প্রতিটি ধৈর্য আল্লাহ তাঁকে কিয়ামাত পর্যন্ত মানুষের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিয়েছেন।
পিতার আদর্শ অনুসরণ: পিতার নেক কাজের সহযোগী হওয়া যে কত বড় মর্যাদার, তা কা‘বা নির্মাণ ও কুরবানীর ঘটনায় প্রমাণিত।
তীরন্দাজি ও শারীরিক কসরত: ইসমা‘ঈল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে মুমিনদের শারীরিক দক্ষতা ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখা উচিত।
বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব: তিনি ছিলেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বতন পুরুষ; তাই তাঁর মর্যাদা সরাসরি আমাদের নবীর সম্মানের সাথে যুক্ত।
পরকালীন মুক্তি:
