أَرْقَمَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَال أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا هَذِهِ الأَضَاحِيُّ؟ قَالَ: «سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ»
“যাইদ ইবনু আরক্বাম (রা.) থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানীগুলো কী?’ তিনি বললেন—‘এটি তোমাদের পিতা ইবরাহীমের সুন্নাহ’।” [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩১২৭; মুসনাদে আহমাদ]
কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য: তাক্বওয়া
আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার অন্তরের পরহেযগারী।
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ
“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর গোশত এবং রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাক্বওয়া (আল্লাহভীতি)।” [সূরাহ আল-হাজ্জ: ৩৭]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ: আল্লাহ যখন কোনো নির্দেশ দেন, তখন নিজের বুদ্ধি বা আবেগ দিয়ে বিচার না করে ‘শুনলাম ও মানলাম’ (সামি‘না ওয়া আতা‘না) নীতি গ্রহণ করা মুমিনের কাজ।
সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলা: ইসমা‘ঈল (সা.)-এর সেই অবিস্মরণীয় উত্তর ছিল পিতা ইবরাহীম (সা.)-এর দেওয়া সুশিক্ষার ফসল।
বিপদে ধৈর্য ও ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা: যেকোনো কঠিন কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা নবীদের বৈশিষ্ট্য।
পিতা-পুত্রের আদর্শ সম্পর্ক: দ্বীনের কাজে পিতা-মাতার বাধ্য হওয়া এবং তাঁদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা বড় সওয়াবের কাজ।
আল্লাহর রহমত: যখন বান্দা পরীক্ষায় অটল থাকে, তখন আল্লাহ কঠিন কাজকেও সহজ করে দেন এবং রহমত নাযিল করেন।
অধ্যায়- ৩: ইসমা‘ঈল (সা.) এর মর্যাদা
হযরত ইসমা‘ঈল (সা.)-এর মর্যাদা কেবল একজন নবী হিসেবেই নয়, বরং তিনি ছিলেন এমন এক বংশের মূলধারা যাঁর পবিত্র শাখায় সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সা.) আগমন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তাঁকে অন্য বড় বড় নবিদের সাথে স্মরণ করেছেন এবং তাঁকে ‘পছন্দনীয়’ ও ‘ধৈর্যশীল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শৈশব থেকেই তিনি যে ত্যাগের পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তা তাঁকে বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে। তিনি ছিলেন মক্কায় ইসলামের প্রথম পতাকাবাহী এবং কা‘বাঘরের প্রথম খাদেম।
নবিদের সারিতে ইসমা‘ঈল (সা.)-এর নাম
আল্লাহ তা‘আলা অন্যান্য মহান নবিদের সাথে ইসমা‘ঈল (সা.)-এর নাম উল্লেখ করে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন।
وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا ۚ وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ
“আর ইসমা‘ঈল, আল-ইয়াসা‘, ইউনুস ও লূতকে; আমি তাঁদের প্রত্যেককেই বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” [সূরাহ
